
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ২৯২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার একটি প্রকল্পে কেনাকাটা, দরপত্র ও যন্ত্রপাতির মান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. ইব্রাহিম খলিলের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয় (ই-জিপি) ব্যবস্থায় দরপত্র আটকে রাখা এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) প্রতিবেদনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তবে পত্রিকাটি নিজেই জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এসিএমও অভিযোগগুলো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি।
কেনাকাটা ও দরপত্র নিয়ে প্রশ্ন
উন্নত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ-সংশ্লিষ্ট এই প্রকল্পে নিয়মবহির্ভূত ক্রয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এতে বিএডিসি চেয়ারম্যানের প্রভাব ছিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন। তাঁদের ভাষ্য, চুক্তিতে অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চমানের ফিউমিগেশন শিট আনার কথা থাকলেও সরবরাহ করা হয়েছে চীনের শিট। একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার সনদ যথাযথভাবে যাচাই না করেই কাজ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বীজের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণে ব্যবহৃত সিড ড্রায়ার কেনার দুটি দরপত্রেও (টেন্ডার আইডি ১১৭৮৮৪১ ও ১১৭৮৮৪০) অভিজ্ঞ তিনটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। কোন কারণে তাদের বাদ দেওয়া হলো এবং সব দরদাতার ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড মানা হয়েছিল কি না—সে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
অকেজো হারভেস্টার
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ কম্বাইন হারভেস্টার নিয়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝিনাইদহের সাধুহাটি খামারে সরবরাহ করা বাংলামার্ক ব্র্যান্ডের মার্কসান এমএস ১০০০ মডেলের হারভেস্টার চালানোর সময় খড়ের সঙ্গে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ধান নষ্ট হচ্ছে বলে দাপ্তরিক আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্যাংকে জমা হওয়া ধানের একটি অংশের খোসা ভেঙে চাল বেরিয়ে আসার কথাও বলা হয়েছে। খামারটির ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আবদুল হাই যন্ত্রটি বদলে নতুন ও সচল হারভেস্টার দেওয়ার সুপারিশ করেছেন।
হবিগঞ্জের ইটাখোলা খামারেও একই সমস্যার কথা জানানো হয়েছে; বারবার মেরামতের পরও যন্ত্রটি সচল হয়নি বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা চেয়েছেন খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. ওসমান গনি। সাধুহাটি ও ঠাকুরগাঁও খামারে সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির ত্রুটি এবং হারভেস্টারের চালকের আসন থেকে যন্ত্র চালাতে অসুবিধার কথাও উঠে এসেছে। বিএডিসির অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (খামার) ড. মো. রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
দুদকে অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, তাঁরা প্রধানমন্ত্রী, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বিএডিসি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। দরপত্র, যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও আর্থিক লেনদেন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযুক্তের বক্তব্য
প্রতিবেদনে প্রকল্প পরিচালক মো. ইব্রাহিম খলিল, বিএডিসি চেয়ারম্যান বা বিএডিসি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি। এগুলো অভিযোগ মাত্র; দুদক বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে কি না, তা প্রতিবেদনে জানানো হয়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে এসিএম তা প্রকাশ করবে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

