
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
ভুয়া বিল তৈরি ও ব্যবহার করে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এ মামলাটি দায়ের করা হয়। আসামিদের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এবং সীমান্ত ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রয়েছেন বলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দিন ডেইলি স্টারকে বলেন, অভিযুক্তরা যোগসাজশ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জাল কাগজপত্র ও বিল দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, জালিয়াতির জন্য সিটি করপোরেশন, রেলওয়ে ও ব্যাংকের কর্মকর্তারা একজন শ্রমিকের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য এবং ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেন।
যেভাবে টাকা তোলা হয়
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ‘দ্য কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যু করা জাল বিলের মাধ্যমে টাকা তোলা হয়। প্রতিষ্ঠানটির জন্য ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স এবং কাগজে দেখানো মালিকের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যাংক হিসাব খোলার প্রমাণও পেয়েছে দুদক।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, কাগজে যাঁকে প্রতিষ্ঠানের মালিক দেখানো হয়েছে, তিনি আসলে একজন শ্রমজীবী নারী; তাঁর নিজের নামে কোনো ব্যাংক হিসাবই নেই। ব্যাংকে জমা দেওয়া কাগজের ছবি ও স্বাক্ষরের সঙ্গে তাঁর এনআইডির মিল না থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক কর্মকর্তারা যথাযথ যাচাই ছাড়াই হিসাবটি খোলেন বলে অভিযোগ।
২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর আরও চারটি বিলের সঙ্গে দ্য কসমোপলিটন করপোরেশনের নামে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার ও নথিপত্র পর্যালোচনায় ওই অর্থ পরিশোধের পক্ষে কোনো বৈধ রেকর্ড পাওয়া যায়নি। দুদকের অভিযোগ, জাল বিলটি অনুমোদন ও প্রক্রিয়া করতে রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিচয় এবং সরকারি হিসাব ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার আইবাস++ (iBAS++)-এর ইউজার ক্রেডেনশিয়াল ব্যবহার করা হয়।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
প্রতিবেদনে অভিযুক্ত ব্যক্তি, রেলওয়ে, চসিক বা সীমান্ত ব্যাংকের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি। মামলা দায়েরের অর্থ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়; আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

