Sunday, August 30, 2026

গৌরনদী টিটিসিতে ভাতা বঞ্চিত প্রশিক্ষণার্থী, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষ আবুল বাশার আল মামুনের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা পরিশোধ না করা, পক্ষপাতিত্ব, স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশিক্ষণার্থী, কর্মচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্রের কর্মচারী, প্রশিক্ষণার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি বাড়িভাড়া সুবিধা না নেওয়ার অজুহাতে অধ্যক্ষসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি বিধিমালা না মেনে টিটিসির ছাত্রাবাসের বিভিন্ন কক্ষ দখল করে বসবাস করছেন। শুধু বসবাসই নয়, কেন্দ্রের ভেতরে হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

এদিকে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জামিলা বেগম ওরফে করলা নামে এক নারী টিটিসির ভেতরে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে একটি মেসে তিন বেলা রান্না করে খাবারের একটি অংশ কেন্দ্রের সামনের কম্পিউটার দোকানের মালিকের কাছে প্রতিদিন বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তাকে টিটিসির ভেতরে রাতে থাকার সুযোগ দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

প্রশিক্ষণ ভাতা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। টিটিসির পঞ্চম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী লিমন ফকিরসহ কয়েকজনের দাবি, প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও তারা এখনো নির্ধারিত ভাতার টাকা পাননি। ভাতার অর্থ চাইতে গিয়ে প্রশিক্ষকদের সঙ্গে একাধিকবার তাদের কথা কাটাকাটিও হয়েছে বলে তারা জানান।

কেন্দ্রের অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক আল-আমিনকে ঘিরেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় এক দোকানদার। জসিম মোল্লার দাবি, আল-আমিনের কথায় তার শ্যালককে টিটিসিতে কাজে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিন মাস কাজ করার পর তাকে বেতনের অর্ধেক দেওয়া হয়। বাকি টাকা আল-আমিন রেখে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠার পর চাপের মুখে সেই অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হন তিনি।

ভর্তি কার্যক্রম নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থীর অভিযোগ, টিটিসির ভেতরেই অনলাইনে ভর্তি সম্পন্ন করার সরকারি ব্যবস্থা থাকলেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থীদের কেন্দ্রের সামনের আমিন খানের কম্পিউটার দোকানে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ভর্তি ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করা হয়। অভিযোগকারীরা জানান, ওই কম্পিউটার দোকানের মালিক আমিন খান টিটিসির অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক আল-আমিনের ভাই।

তবে কেন্দ্রের ভেতর থেকে সরাসরি ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। গত ১৭ আগস্ট আগৈলঝাড়ার পয়সারহাট এলাকার সাইদুল ইসলাম প্রবাসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে টিটিসিতে প্রশিক্ষণের জন্য ভর্তি হতে আসেন। পরে কেন্দ্রের তিনতলা থেকে কর্মচারী আব্দুল কাদেরের মাধ্যমে তার ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। বিষয়টি জানতে পেরে অধ্যক্ষ আবুল বাশার আল মামুন তাকে ভবিষ্যতে এভাবে কেন্দ্রের ভেতর থেকে ভর্তি কার্যক্রম না করার জন্য সতর্ক করেন।

অভিযোগের বিষয়ে আমিন খান বলেন, প্রশিক্ষণে পুরুষদের ভর্তি করতে প্রায় ৬৫০ টাকা খরচ হয়। নারীদের ক্ষেত্রে খরচ পড়ে প্রায় দুই হাজার টাকা। তবে কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে টিটিসির অধ্যক্ষ আবুল বাশার আল মামুন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সরকারি কোয়ার্টার হ্যান্ডওভার না করায় তারা কোয়ার্টারে থাকেন না বলে দাবি করেন তিনি। তবে কেন্দ্রের ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের বিষয়টি স্বীকার করে অধ্যক্ষ বলেন, টিটিসির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জনবল নেই। এ কারণে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কেন্দ্রের ভেতরে থাকছেন।

কেন্দ্রের ভেতরে হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালনের অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, বিষয়টি তেমন কোনো সমস্যা নয় এবং এতে সরকারের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জামিলা বেগম ওরফে করলাকে টিটিসির ভেতরে থাকতে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই নারী আগে একটি প্রকল্পে কাজ করতেন। বর্তমানে তার কোনো চাকরি নেই। মানবিক কারণে তাকে সেখানে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীম বলেন, এখন পর্যন্ত কেউ এ বিষয়ে তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ