
নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর:
নাটোর শহরের অন্যতম প্রবেশদ্বার ও ব্যস্ততম ‘হরিশপুর বাসস্ট্যান্ড’ বর্তমানে চরম ভোগান্তির এক নরককুণ্ডে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে টার্মিনাল এলাকার ভেতরের রাস্তা ও প্রধান চত্বরটি সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো বাসস্ট্যান্ড এলাকা হাঁটুসমান কাদা আর নোংরা পানির বিশাল জলাশয়ে রূপ নিচ্ছে। তবে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও পরিবহন-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই বেহাল দশার পেছনে রয়েছে টার্মিনাল উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে নাটোর পৌরসভার কোটি কোটি টাকার হরিলুট ও ভয়াবহ দুর্নীতি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বাসস্ট্যান্ড এলাকা জুড়ে পিচ-খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে সেই গর্তগুলো এখন একেকটি ছোটখাটো ডোবায় রূপ নিয়েছে। দূরপাল্লার ও স্থানীয় বাসগুলো যখন এই কাদার ওপর দিয়ে চলাচল করে, তখন চারপাশের দোকানপাট ও পথচারীদের গায়ে নোংরা পানি ছিটকে পড়ে। টার্মিনালজুড়ে ভারী কাদার স্তর জমে থাকায় যাত্রী ও চালকদের প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী, ভুক্তভোগী যাত্রী এবং পরিবহন মালিক সমিতির অভিযোগ, প্রতি বছরই টার্মিনাল উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে মোটা অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ করা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। লোকদেখানো নামমাত্র কিছু কাজ করে বাকি কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে পকেটস্থ করছে পৌরসভার একটি প্রভাবশালী চক্র। এই লুটপাট ও চরম অব্যবস্থাপনা নিয়ে নাটোর পৌরসভায় বারবার লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো সুরাহা বা কার্যকর পদক্ষেপ মেলেনি। উল্টো দিনের পর দিন এই নরকযাতনা সহ্য করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হরিশপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন শত শত যানবাহন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে। এখান থেকে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা হলেও টার্মিনালের কোনো উন্নয়ন হয় না। সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকার যে দুর্নীতি হচ্ছে, এই বেহাল দশাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। কাদা আর খানাখন্দের কারণে প্রতিনিয়ত গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, দুর্ঘটনা ঘটছে। পৌরসভাকে বারবার বলা সত্ত্বেও তারা শুধু পকেট ভারী করতেই ব্যস্ত, জনগণের দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।”

এই ভয়াবহ দুর্নীতি ও হরিলুটের সুষ্ঠু তদন্তসহ বাসস্ট্যান্ডটিকে দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করতে নাটোর পৌরসভার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ, যাত্রীসাধারণ এবং জেলা পরিবহন মালিক সমিতি।

