মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬

মাগুরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে দু’র্নী’তির অ’ভিযোগ, আলোচনায় নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) দেশের নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন মাগুরা জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চলতি দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালের ১ জুন মাগুরায় যোগদানের পর থেকেই তিনি সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর-এর ভাই আনিসুর রহমান সাচ্চুর সঙ্গে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন। সরকারি বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে প্রায় সাড়ে ছয় বছর একই জেলায় দায়িত্ব পালন করায় জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

অনুসন্ধানে আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে বেনামে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা, আত্মীয়স্বজন ও অফিস কর্মচারীদের নিয়ে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গঠন, কাজের বিল ছাড়ে কমিশন বাণিজ্য এবং টেন্ডার কারসাজির অভিযোগ।

ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, ৫ শতাংশ কমিশন ছাড়া তিনি কোনো কাজের বিল অনুমোদন করতেন না। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গভীর নলকূপ স্থাপন প্রকল্পে সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে সাব-টেন্ডারের মাধ্যমে অফিসের লোকজন দিয়ে কাজ করিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি প্রায় ২৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের টেন্ডার কারসাজির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে দীর্ঘদিন সুবিধা ভোগ করেছেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে, মূলত সহকারী প্রকৌশলী পদে থাকলেও সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তদবিরের মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব পান তিনি। একই সঙ্গে সাবেক এমপি সাইফুজ্জামান শিখরের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অন্তত ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ঢাকা ও রাজশাহীতে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়েছেন আবু বকর সিদ্দিক, যার সঠিক তথ্য আয়কর বিভাগেও দেওয়া হয়নি। এছাড়া অফিসের স্টোর থেকে মূল্যবান মালামাল চুরি হলেও তিনি কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাংবাদিকদের তথ্য দিতে অনীহার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, কোনো মৌখিক তথ্য চাইলে তিনি ‘তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করুন’ বলে সময়ক্ষেপণ ও তথ্য গোপনের চেষ্টা করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, আবু বকর সিদ্দিক প্রায়ই দাবি করেন যে দেশের শীর্ষ পর্যায় ও রাষ্ট্রপতির দপ্তরে তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় রয়েছেন, যার কারণে তাকে বদলি করার ক্ষমতা কারও নেই। এ ধরনের বক্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মাগুরার সচেতন নাগরিকদের দাবি, গত সাড়ে ছয় বছরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে হওয়া সব উন্নয়ন কাজের ওয়ার্ক ফাইল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় অডিটের মাধ্যমে তদন্ত করা হলে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের তথ্য বেরিয়ে আসবে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক। তিনি বলেন, “এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপপ্রচার। আমার চাকরির ক্ষতি করার জন্য একটি মহল এসব করছে। আমি সততার সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করছি।”

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ