মঙ্গলবার, মে ২৬, ২০২৬

সমাজসেবা অধিদপ্তরে প্রভাব বিস্তার ও দু’র্নী’তির অ’ভিযোগে আলোচনায় ডিডি অ্যাডমিন রবিউল করিম

সমাজসেবা অধিদপ্তরের ডিডি অ্যাডমিন পদে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন রবিউল করিম। গ্রামের বাড়ি বগুড়ায় হলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি প্রশাসনের অত্যন্ত প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব খাটিয়ে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘদিন একই গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রবিউল করিমের অবস্থানেও দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। আগে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে তিনি নিজেকে বগুড়া বিএনপির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের অবস্থান রক্ষায় নতুন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করছেন তিনি। বিগত সরকারের সময়ে প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে পদায়ন, বদলি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে একটি সুবিধাভোগী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা সারাদেশে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত রবিউল করিম বিপুল অর্থসম্পদের জোরে নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ করতেন। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দেশের ভেতরেও তার সম্পদের বিস্তার চোখে পড়ার মতো বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। রাজধানীর অভিজাত এলাকা বসুন্ধরায় তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নিজ এলাকায় প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে জমি কিনে বিলাসবহুল আবাসন নির্মাণের তথ্যও আলোচনায় এসেছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে “সফটওয়্যার” তৈরির নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে রবিউল করিমের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও তাদের ঘনিষ্ঠ একটি চক্র কাগজে-কলমে সফটওয়্যার উন্নয়নের প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাত করেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাস্তবে কোনো কার্যকর সফটওয়্যার না থাকলেও কৃত্রিম বিল-ভাউচার তৈরি করে সরকারি কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের লোকজনকে দিয়ে কাগুজে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তৈরি করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখানো হয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, টেন্ডার প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে নিজেদের অনুগত ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো। এমনও অভিযোগ রয়েছে, যেসব সফটওয়্যারের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে, সেগুলোর বাস্তব ব্যবহার কোনো অফিসেই নেই।

অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যখন বিভিন্ন দপ্তরে বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়, তখন ওই সিন্ডিকেট নিজেদের রক্ষায় নতুন কৌশল নেয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে সামনে এসে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে একই গোষ্ঠী।

শুধু কেন্দ্রীয় কার্যালয়েই নয়, জেলা পর্যায়ের সমাজসেবা অফিসগুলোতেও একই ধরনের অনিয়ম ও প্রভাব বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের এই সিন্ডিকেটের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও পোস্টে রবিউল করিমকে শেখ মুজিবুর রহমান-এর মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নূরুজ্জামান-এর বাসভবনেও তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের নেতৃত্বে সমাজসেবা অধিদপ্তরে বিভিন্ন ধরনের তদবির ও প্রভাব বাণিজ্য পরিচালিত হতো বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে মন্ত্রীর এপিএস ও ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মিজানের নেতৃত্বে বিভিন্ন অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সমাজসেবা অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রভাব বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ