বুধবার, মে ২০, ২০২৬

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী সুদীপ বসাকের বিরুদ্ধে দু’র্নী’তি ও অ’নিয়মের গুরুতর অ’ভিযোগ

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ) সুদীপ বসাকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাবেক সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) থেকে শুরু করে বর্তমানে গাজীপুর সিটি করপোরেশনেও সুদীপ বসাক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তার বিরুদ্ধে জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনবিরোধীদের সহযোগিতা করার অভিযোগও উঠেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে শহীদ ছাত্রদের আত্মত্যাগের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে না।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ৯ জুলাই কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের যান্ত্রিক শাখায় দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগ দেন সুদীপ বসাক। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে তাকে স্থায়ী করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তার নিয়োগ ও পরবর্তী পদোন্নতির পুরো প্রক্রিয়াই চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে সম্পন্ন করা হয়েছে।

অভিযোগকারীরা আরও জানান, মাত্র এক বছর নয় মাসের মধ্যে সহকারী প্রকৌশলী এবং প্রায় ১০ বছরের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে উন্নীত হওয়া ছিল অস্বাভাবিক ও বিধিবহির্ভূত। এমনকি তার পদোন্নতি নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের হলেও রহস্যজনকভাবে তিনি পদে বহাল থাকেন।

গাসিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর পদ শূন্য থাকায় ওই পদে নিয়োগ পেতেও জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন সুদীপ বসাক। বিষয়টি নিয়ে সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, গাসিকের প্রায় ১ হাজার ২২৫ জন মাস্টাররোল কর্মচারীকে স্থায়ীকরণের আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আদায়কৃত অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ওয়াকিটকি ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভুয়া দরপত্র দেখিয়ে কয়েকগুণ বেশি মূল্যে ক্রয় দেখানো হয়েছে। বাজারমূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত দামে যন্ত্রপাতি কিনে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে।

এছাড়া মশকনিধন কার্যক্রম, যানবাহন শাখা, জ্বালানি তেল সরবরাহ, আইটি শাখা ও ভান্ডার শাখাসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সাবেক মেয়র ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় এসব অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে কর্মরত সাংবাদিক অধ্যাপক মাসুদুল হক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচিব এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে সুদীপ বসাকের নিয়োগ, পদোন্নতি ও সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে সুদীপ বসাকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে ও সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ