
ভোলা সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে টিআর (টেস্ট রিলিফ), কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের তথ্য গোপন, অনিয়ম এবং স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবায়নাধীন ও সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের তালিকা চাওয়া হলেও তিনি তা সরবরাহে গড়িমসি করছেন।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার নিয়ম থাকলেও সংশ্লিষ্ট তালিকা অনলাইনে পাওয়া যায়নি।
প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, ধনিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মিলবাজার থেকে ব্যাপারী বাড়ির দরজা পর্যন্ত একটি কাঁচা রাস্তা সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেখানো হলেও সরেজমিনে কাজের কোনো বাস্তব চিত্র পাওয়া যায়নি।
এছাড়া “পশ্চিম চরসামাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়” নামে একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য খাদ্য সহায়তা বরাদ্দের তথ্য পাওয়া গেলেও এলাকাবাসীর দাবি, ওই নামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই।
একইভাবে “সাহেবের চর হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসা” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জন্যও সরকারি বরাদ্দের আবেদন পাওয়া গেছে, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তথ্য চেয়েও না পাওয়ার অভিযোগ
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের তালিকা জানতে একাধিকবার প্রকল্প অফিসে যোগাযোগ করা হলেও পিআইও জিয়াউর রহমান বিভিন্ন অজুহাতে তথ্য দিতে বিলম্ব করছেন।
এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামানকে জানানো হলে তিনি মুঠোফোনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এরপরও তালিকা সরবরাহ করা হয়নি।
সুজনের প্রতিক্রিয়া
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ভোলা জেলা সভাপতি মোবাশ্বের উল্লাহ চৌধুরী বলেন, “রাষ্ট্রীয় উন্নয়নমূলক কাজের তথ্য জনগণের কাছে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। কোনো কর্মকর্তা যদি তথ্য গোপন করেন, তাহলে সেখানে অনিয়মের সন্দেহ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রকল্পের তথ্য জনগণকে জানাতে অস্বীকৃতি জানানো হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।”
অতীতেও অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও বরগুনা সদর উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় উন্নয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে এক সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
এছাড়া এক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, বিভিন্ন প্রকল্পের কাজের বিপরীতে তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পিআইও জিয়াউর রহমানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

