বুধবার, মে ১৩, ২০২৬

মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অ’নিয়মের অ’ভিযোগ, বহিরাগতদের দখলে রেকর্ড রুম

রাজধানীর ঢাকা রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের আওতাধীন মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বহিরাগত ও নিয়োগবিহীন ব্যক্তিদের দৌরাত্ম্য, রেকর্ড রুমের নিরাপত্তাহীনতা এবং ঘুষ-দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর অফিসটির সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, অফিসে নিয়োগপত্রবিহীন কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড রুমের চাবিও তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

রেকর্ড রুমে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতের অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আওলাদ হোসেনের ভাই আকিবসহ কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তি নিয়মিত রেকর্ড রুমে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও নথিপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করছেন। কখনো কখনো এসব কাগজপত্র বাইরে পাচারের অভিযোগও উঠেছে।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, “সাব-রেজিস্ট্রার বদলি হয়ে চলে যেতে পারেন, কিন্তু রেকর্ড রুমের নিরাপত্তা নষ্ট হলে তার ক্ষতি জমির মালিকদের বহু বছর ভোগ করতে হবে।”

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রেকর্ড রুমের চাবি দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিস সহকারীর কাছে থাকার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে সেটি বহিরাগতদের হাতেই রয়েছে।

দীর্ঘদিন অনুপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা

অভিযোগে বলা হয়েছে, কয়েকজন নিয়োগপ্রাপ্ত লিগ্যাল সিনিয়র স্টাফ দীর্ঘ সময় ধরে অফিসে অনুপস্থিত থাকলেও এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে, অফিসের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নানা অনিয়ম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কথিত সিন্ডিকেটের সদস্যরা দলিল নিবন্ধনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে থাকেন।

ঘুষ ছাড়া সেবা না পাওয়ার অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ না দিলে দলিল সংক্রান্ত কাজ দীর্ঘসূত্রতায় ফেলে রাখা হয়। আবার নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে অর্থ পৌঁছালে অল্প সময়েই জটিল দলিলও নিবন্ধন সম্পন্ন হয়ে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, দলিলে বিশেষ সংকেত ব্যবহার করে কোন ফাইলে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হয়েছে তা শনাক্ত করা হয়।

বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন

সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত বিমানযোগে ঢাকা-সিলেট যাতায়াতসহ তার ব্যক্তিগত ব্যয় সরকারি বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এছাড়া প্রতি সপ্তাহে অবৈধ অর্থ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তদন্তের দাবি

স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণ এবং রেকর্ড রুমের নিরাপত্তাহীনতা সাধারণ মানুষের সম্পত্তির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

তারা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ