
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা অফিসের এক পিয়নের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দালালি, জালিয়াতি ও প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সামান্য সরকারি চাকরিজীবী হয়েও পিয়ন পারভেজের বিলাসবহুল জীবনযাপন ও আলিশান বাড়ি নির্মাণ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন পিয়নের আয়ে কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা অফিসে আসা সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন কাজের কথা বলে জিম্মি করা, নথিপত্রে অনিয়ম এবং দালালি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন পারভেজ। অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ টাকায় তিনি গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন বাড়ি ও বিলাসবহুল জীবনযাপন।
এছাড়া পারভেজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অন্যের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগও তুলেছেন প্রতিবেশীরা। স্থানীয়দের দাবি, জনসাধারণের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে সেখানে বড় গেইট নির্মাণ করায় এলাকাবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, নিজের দখলদারিত্ব বজায় রাখতে এবং প্রতিবাদকারীদের ভয় দেখাতে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন তিনি। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের মধ্যেও একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, পারভেজের আয়-ব্যয়ের উৎস, সম্পদের হিসাব এবং দখলদারিত্বের অভিযোগ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এমন অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

