
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-তে বদলি ও পদায়নকে ঘিরে এক নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল এক অফিস আদেশে বেশ কয়েকজন সহকারী পরিচালক ও মোটরযান পরিদর্শককে দেশের বিভিন্ন সার্কেলে বদলি করা হলেও মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেই আদেশ রহস্যজনকভাবে বাতিল বা স্থগিত করা হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেলের দুই কর্মকর্তা—সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমান ও রিয়াজুল ইসলাম।
বিআরটিএর অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে একই সার্কেলে অবস্থান করে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন এই কর্মকর্তারা। অভিযোগ রয়েছে, বদলি আদেশ জারির পর তারা তা ঠেকাতে প্রভাবশালী মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন।
জিয়াউর রহমানের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল মিরপুর কার্যালয়ে একজন সাধারণ মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে। পরে নানা প্রভাব খাটিয়ে সহকারী পরিচালক পদে উন্নীত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি লাইসেন্স কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফিল্ড টেস্ট নিয়ন্ত্রণ করে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, রিয়াজুল ইসলাম সিলেট সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় আসেন। স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়ম, সার্ভার ডাটা পরিবর্তন এবং ঘুষের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।
গত ১২ এপ্রিলের বদলি আদেশ অনুযায়ী, রিয়াজুল ইসলামকে ঝালকাঠি এবং জিয়াউর রহমানকে বগুড়ায় পাঠানোর কথা ছিল। একই সঙ্গে অন্য সার্কেল থেকে নতুন কর্মকর্তাদের ঢাকা মেট্রো-১-এ আনার সিদ্ধান্ত হয়।
কিন্তু ঘটনার মোড় ঘুরে যায় খুব দ্রুত। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতেই এবং পরদিন সকালে বিআরটিএ ভবনে একটি প্রভাবশালী চক্রের বৈঠক হয়। সেখানে বদলি ঠেকাতে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এর পরদিনই, ১৩ এপ্রিল, নতুন এক অফিস আদেশে আগের বদলি আদেশ পুরোপুরি বাতিল করা হয়। সরকারি চাকরিতে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে এমন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বদলি কার্যকর হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়। এমনকি আদেশে উল্লেখ ছিল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত ধরা হবে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই হঠাৎ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিযোগ উঠেছে, কিছু কর্মকর্তা এখনো প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। ফলে সাধারণ সেবা নিতে আসা মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে হলে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাদের সম্পদের উৎসও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ সাড়া দেননি।

