রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২৬

৪ লাখ মানুষের হাসপাতালে ডাক্তার সংকট, ১০ বছর ধরে অনুপস্থিত দুইজন

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক দিনের ছুটি নিয়ে টানা ১০ বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন দুই চিকিৎসক। বিষয়টি শুধু বিস্ময়কর নয়, বরং স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার চরম সংকটের দিকটিও সামনে এনে দিয়েছে।

অনুপস্থিত এই দুই চিকিৎসক হলেন—রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক) আবুল কাশেম মহিউদ্দিন এবং সাইচা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার কাজী সামসুদ্দোহা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম।

তথ্য অনুযায়ী, আবুল কাশেম মহিউদ্দিন ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই থেকে এবং কাজী সামসুদ্দোহা একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তারা দুজনই পারিবারিক কারণ দেখিয়ে এক দিনের ছুটি নেন, কিন্তু এরপর আর কাজে ফেরেননি।

এই দীর্ঘ সময় তারা কোনো বেতন-ভাতাও তোলেননি। কর্তৃপক্ষ একাধিকবার তাদের কর্মস্থলে যোগদানের জন্য চিঠি পাঠালেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের স্থায়ী ঠিকানায় পাঠানো চিঠিগুলোও প্রাপক না পেয়ে ফেরত এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, এই দুই পদ ১০ বছরেও শূন্য ঘোষণা করা হয়নি। ফলে সেখানে নতুন কোনো চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রতি মাসেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জনবল পরিস্থিতির রিপোর্ট লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন অফিস এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়, যেখানে এই দুই চিকিৎসকের অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়মিত উল্লেখ করা হয়েছে। তারপরও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বর্তমানে প্রায় ৪ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিতে এই হাসপাতালে মাত্র ২১ জন চিকিৎসক রয়েছেন, যা দিয়ে সেবা কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। একই সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ না দেওয়াও দুঃখজনক।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, বিষয়টি নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও পদগুলো শূন্য ঘোষণা না হওয়ায় নতুন নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, এত বড় জনগোষ্ঠীর জন্য সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে সেবা দেওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ