রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় করাত কল স্থানান্তরে ঘুষ দাবির অভিযোগ, বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি

চুয়াডাঙ্গা সামাজিক ও বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, গ্রাহক হয়রানি এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একটি করাত কল স্থানান্তরের অনুমোদনকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ সামনে এসেছে, যা এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার এক ব্যক্তি (ছদ্মনাম শাফায়েত উল্লাহ) তার করাত কলটি কাঠপট্টি এলাকা থেকে বেলগাছি পাড়ায় স্থানান্তর করতে চান। এ জন্য তিনি পৌরসভা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদনসহ সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বন বিভাগে আবেদন করেন। তবে এক মাস পার হলেও তার আবেদনটি কোনো অজানা কারণে আটকে রাখা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ.কে.এম আতা এলাহী এবং রেঞ্জ সহকারী শাহজামান রিপন তাকে সঠিক সরকারি ফি বা নিয়ম না জানিয়ে বারবার অফিসে ঘুরিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।

অনুসন্ধানে একটি অডিও রেকর্ড পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে, যেখানে রেঞ্জ সহকারী শাহজামান রিপন ভুক্তভোগীকে বলেন যে, সরকারি ফির বাইরে আরও খরচ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ডিসি অফিসে মিটিং এবং কুষ্টিয়া অফিসে টাকা দিতে হবে। এমনকি পূর্বের একটি কাজের উদাহরণ দিয়ে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন। তবে অতিরিক্ত টাকা কেন লাগবে—এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে সাংবাদিকরা অপেশাদার আচরণের মুখোমুখি হন বলে অভিযোগ রয়েছে। রেঞ্জ সহকারী শাহজামান রিপন তাদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং এক পর্যায়ে হুমকির সুরে বলেন, “তোরা এলাকার ছেলে, ঝামেলা করিস নে।”

পরে অফিসার ইনচার্জ আতা এলাহী ভুক্তভোগীকে জানান, একটি আবেদন দিয়ে কাজ করা সম্ভব নয় এবং আরও কয়েকটি আবেদন জমা না হলে ফাইল পাঠানো যাবে না। ভুক্তভোগীর দাবি, এই শর্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে আতা এলাহী তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে ভুক্তভোগীর কাছে থাকা অডিও রেকর্ড এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য তার দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধানকে ডেকে জবাবদিহি চাওয়া হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নামে টাকা চাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং এ ধরনের দাবি ভিত্তিহীন।

ভুক্তভোগী এই হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে এবং নিয়ম অনুযায়ী করাত কল স্থানান্তরের অনুমতি পেতে বন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ