বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

চাঁদাবাজদের ছাড় নয়- দেশজুড়ে তালিকা করছে র‍্যাব, আসছে আইনি ব্যবস্থা

দেশজুড়ে চাঁদাবাজদের একটি নিরপেক্ষ (আনবায়াসড) তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। তালিকা প্রস্তুত শেষে এতে অন্তর্ভুক্ত সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এ তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এটি হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। “র‍্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তালিকায় যারাই থাকবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না,” যোগ করেন তিনি।

রাজনৈতিক ব্যক্তিরা তালিকায় থাকলে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, “তালিকা প্রণয়নে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব থাকবে না। যে অপরাধী, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তালিকা প্রস্তুতের নির্দিষ্ট সময়সীমা না জানালেও তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে মাঠ পর্যায়ে অভিযান শুরু করা হবে। “আজকেও অভিযান শুরু হতে পারে,” উল্লেখ করেন তিনি।

র‍্যাব জানায়, চাঁদাবাজি একটি নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ নয়। মহাসড়কভিত্তিক পরিবহন খাত, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি—সব ধরনের চাঁদাবাজিকে তালিকার আওতায় আনা হচ্ছে। ছোট থেকে বড় সব স্তরের অপরাধীদেরই এতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ভয় বা নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযোগ করেন না। এ কারণে গোয়েন্দা তথ্য, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

কল্যাণপুরে একটি হাসপাতালের উদ্যোক্তার কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে র‍্যাব জানায়, বিষয়টি প্রথমে পুলিশের কাছে গেছে এবং যাচাই চলছে। একই সঙ্গে র‍্যাবও ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক ইয়াবা চালান আটকের বিষয়ে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, “মাঠ পর্যায়ে সাধারণত নিম্নস্তরের সদস্যরা ধরা পড়ে। তবে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতা বা গডফাদারদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর কোনো চাপ আছে কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “র‍্যাব স্বাধীনভাবেই কাজ করছে, কোনো বেআইনি চাপ নেই। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”

@news247bangla

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ