বুধবার, জুলাই ৮, ২০২৬

বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য চট্টগ্রাম কাস্টমে: কোটি টাকার ঘুষ প্রতিদিনের ঘটনা!

দেশের সর্ববৃহৎ রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে অবৈধ বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য, ঘুষ লেনদেন এবং রাজস্ব ফাঁকির বিস্তৃত অভিযোগ উঠে এসেছে একটি লিখিত আবেদনে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো ওই আবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের প্রায় প্রতিটি শাখা ও সেকশনে বহিরাগতদের মাধ্যমে চলছে অবৈধ কার্যক্রম।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কাস্টম হাউসের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেরাই বহিরাগত লোক নিয়োগ দিয়ে তাদের মাধ্যমে ঘুষ আদায় করছেন। এসব বহিরাগতরা কম্পিউটার অপারেটর, নথি ব্যবস্থাপনা এমনকি ASYCUDA World System-এ কাজ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করছে, যা তথ্য নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

সূত্র অনুযায়ী, কাস্টম হাউসের প্রতিটি গ্রুপ বা সেকশনে গড়ে ৭-৮ জন করে বহিরাগত সক্রিয় রয়েছে এবং পুরো প্রতিষ্ঠানে এ সংখ্যা ৩৫০ থেকে ৪০০ জনের মধ্যে। অভিযোগে আরও বলা হয়, এদের মাধ্যমেই প্রতিদিন প্রায় ৩.৫০ কোটি থেকে ৫.৫০ কোটি টাকা ‘স্পিড মানি’ বা ঘুষ লেনদেন হয়।

এছাড়া শুল্ক ফাঁকির অর্থ তিন ভাগে ভাগ হয়ে কর্মকর্তা, বহিরাগত এবং তৃতীয় পক্ষের মধ্যে বণ্টিত হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই হিসাবে প্রতিদিন ১০.৫০ কোটি থেকে ১৬.৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছে, যা বছরে দাঁড়ায় প্রায় ২,৭৭২ কোটি থেকে ৪,৩৫৬ কোটি টাকায়।

আবেদনে আরও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে যে, সরকারি কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম অবৈধভাবে বিক্রি করা হচ্ছে এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথি টাকা নিয়ে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অফিসের চাবিও বহিরাগতদের কাছে থাকে বলে দাবি করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে ওই আবেদনে। বলা হয়, কাস্টম হাউসে যে কেউ সহজেই প্রবেশ করতে পারে এবং সামান্য অর্থের বিনিময়ে নিরাপত্তাকর্মীরা প্রবেশের অনুমতি দিয়ে থাকে।

এ পরিস্থিতি উত্তরণে কয়েকটি সুপারিশও করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • অবৈধ বহিরাগতদের সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার
  • জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা
  • কাস্টম হাউসের প্রবেশপথে যৌথবাহিনীর সদস্য মোতায়েন
  • দুর্নীতির তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা
  • জাল কাগজপত্র দিয়ে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে কঠোর নজরদারি

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বহিরাগতদের সরিয়ে দিয়ে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দক্ষ জনবল নিয়োগ দিলে দুর্নীতি কমবে এবং কাজের গতি বাড়বে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

@news247

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ