মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬

আওয়ামী লীগের প্রভাব কাটিয়ে ২১ বছর ধরে একই সার্কেলে কে এই হাবিব…

(চট্টগ্রাম প্রতিনিধি)

চট্টগ্রাম সার্কেলের বন কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুল হকের বিরুদ্ধে বদলি নীতিমালা লঙ্ঘন থেকে শুরু করে গাছ কর্তন, সুফল প্রকল্পে অনিয়ম, জব্দকৃত বালু বিক্রি ও অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের মতো একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে বন বিভাগের ভেতরে–বাইরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে সার্চ গঠন করে তদন্তও চলমান রেখেছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বধীন বন কর্মকর্তারা।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারী বদলি নীতিমালা” থাকা সত্ত্বেও হাবিবুল হক দীর্ঘ ২১ বছর ধরে চট্টগ্রাম সার্কেলের পাঁচটি বিভাগ—কক্সবাজার উত্তর, বান্দরবান, উপকূলীয়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও কক্সবাজার দক্ষিণ—এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত আছেন।

বন বিভাগের একাধিক বন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম সার্কেল কনজারভেটর (সিএফ) বিপুল কৃষ্ণ দাশের প্রভাব ও পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই তিনি একই সার্কেলে দীর্ঘসময় ধরে পদায়িত থাকতে পেরেছেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র এখনো প্রকাশ হয়নি।

বারোবাকিয়া রেঞ্জের টইটং বিটে তিনি ৩০ হাজার আকাশমনি গাছ কর্তনের অভিযোগে ব্যাপক তোলপাড় হয়।

তৎকালীন ডিভিশনাল অফিসার এম. এ. হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা” পেয়েছিলেন। তবে তদন্তের ফলাফল বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কোনো নথি সর্বজনীনভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

সুফল প্রকল্পের আওতাধীন বিভিন্ন বাগানে গাছ উজাড় সরকারি অর্থ আত্মসাৎ তদারকির অভাব এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম,এসব অভিযোগও নিয়মিতভাবে ওঠে হাবিবুল হকের বিরুদ্ধে।

অনেকেই জানান, প্রকল্পের কাজগুলোকে ব্যক্তিগত স্বার্থে নিয়ে যাওয়ার ফলে সরকারি বাগানগুলোর উৎপাদনশীলতা ও ব্যবস্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ছাড়াও চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জব্দ করা পাহাড়ের বালু ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে হাবিবুল হকের বিরুদ্ধে।

২০২০ সালে পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের সংগ্রামের জুম এলাকায় শাকের উল্লাহ ও আবদুল জলিলের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট পাহাড় কেটে প্রায় ১০ লাখ ঘনফুট বালুর দুটি বিশাল স্তূপ তৈরি করে।
উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বালুগুলো জব্দ করে বন বিভাগের জিম্মায় দেয়।

তিন বছর পর, হাবিবুল হক ওই জব্দকৃত বালু গোপনে লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। স্থানীয় জাকের হোসেন জানিয়েছিলেন, গত বছরও তিনি বালু বিক্রির চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সাংবাদিকরা জানতে পারায় আর বিক্রি করা হয়নি। এবার গোপনে সিন্ডিকেটকে বিক্রি করেছেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ