মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬

মাত্র ২০ রুপি ঘুষ গ্রহণ: নির্দোষ প্রমাণের পরদিনই বাবু ভাইয়ের মৃত্যু

এসিএম নিউজ ডেস্ক
ভারতের আহমেদাবাদে ১৯৯৬ সালে কর্মরত ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল ‘বাবুভাই প্রজাপতি’। তাঁর বিরুদ্ধে সে সময় ২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মামলাও হয়। সাজা হয়। ৩০ বছর আইনি লড়াই চালিয়ে তিনি হাইকোর্টের রায় খালাস পান। কিন্তু চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
দীর্ঘ ৩০ বছর যে অপবাদ দিয়ে তিনি বেঁচে ছিলেন সেই অপবাদ থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি বাঁচতে পারলেন না। তাকে চলে যেতে হল পরপারে।
এনডিটিভি’র খবর থেকে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে আহমেদাবাদের পুলিশ কনস্টেবল ‘বাবুভাই প্রজাপতির’ বিরুদ্ধে মাত্র ২০ রুপি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতি দমন আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল হয়। কিন্তু তিনি সব সময় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তারপরও ২০০৪ সালে বিচারিক আদালত তাঁকে চার বছরের কারাদণ্ড ও ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরই গুজরাট হাইকোর্টে আপিল করেন বাবুভাই।
এরপর দীর্ঘ ২২ বছর কেটে যায়। আপিল শুনানি হাইকোর্ট ঝুলে ছিল। অবশেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে গুজরাট হাইকোর্ট রায় দেন। রায় বাবু ভাইকে খালাস দেওয়া হয়। হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণের সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ এই মামলার যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তাদের জবানিতে মারাত্মক অসংগতি রয়েছে। নিম্ন আদালত সাক্ষীদের জবানবন্দির অসঙ্গতি গুলো বিবেচনায় না নিয়ে বাবু ভাইকে শাস্তি দিয়েছেন।
১৯৯৬ থেকে ২০২৬। দীর্ঘ ৩০ বছর আইনি লড়াইয়ে পিষ্ট হতে থাকেন বাবু ভাই। সামাজিকভাবে তিনি হেয় হয়েছিলেন। তবে তিনি আশা করতেন, একদিন তিনি প্রমাণ করে ছাড়বেন, তিনি নির্দোষ। তিনি প্রমাণ করে ছাড়বেন, মাত্র ২০ রুপি ঘুষ নেয়ার অভিযোগ ছিল ‘মিথ্যা কলঙ্ক’।
ঠিক তাই হলো ‘মিথ্যা কলঙ্ক ‘থেকে তিনি মুক্তি পেলেন। আর গুজরাট হাইকোর্টের রায় শুনে তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠলেন।রায়ের পর আত্মহারা হয়ে ‘বাবুভাই প্রজাপতি’ বলেছিলেন, ‘আমার জীবন থেকে কলঙ্ক মুছে গেছে। এখন ঈশ্বর আমায় নিয়ে নিলেও কোনো দুঃখ নেই।’ তার কথাই সত্যি হলো। ঈশ্বর তাকে নিয়ে নিলেন পরদিনই।
বাবুভাইয়ের আইনজীবী নিতিন গান্ধী এনডিটিভি জানান, রায়ের দিন বাবুভাই অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাঁকে বলেছিলাম, আপনি এখন সরকারের কাছ থেকে বকেয়া সব সুযোগ-সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবেন। পরদিন তাঁকে ফোন করলে জানতে পারি, তিনি মারা গেছেন।’ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বার্ধক্যজনিত কারণে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ