শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২৬

জনতা ব্যাংকের ২ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত

দুদকের অনুমোদনে সালমান এফ রহমানসহ ৯৪ জনের বিরুদ্ধে চার মামলাঋণ ও রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) সুবিধার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জনতা ব্যাংক থেকে প্রায় ২ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ৯৪ জনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন মামলাগুলোর অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, গ্রুপের চেয়ারম্যান সোহেল এফ রহমান এবং তাদের দুই পুত্র।দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ইডিএফ সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে বেক্সিমকো গ্রুপের মাধ্যমে ২৪টি প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়। এর মধ্যে চারটি নবসৃষ্ট ও অভিজ্ঞতাহীন পোশাক কারখানার নামে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস থেকে ঋণ ও ইডিএফ সুবিধা নিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।চার প্রতিষ্ঠানের নামে আত্মসাতের অভিযোগদুদকের নথি অনুযায়ী—ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেড: প্রায় ৪১৬ কোটি টাকাপিংক মেকার গার্মেন্টস লিমিটেড: প্রায় ৬৭৫ কোটি টাকাএ্যাপোলো অ্যাপারেলস লিমিটেড: প্রায় ৭১৯ কোটি টাকাবে সিটি অ্যাপারেলস লিমিটেড: সর্বাধিক প্রায় ১ হাজার ৪৭ কোটি টাকাএসব প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা উত্তোলন করে আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও স্তরায়নের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।ব্যাংক কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগমামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও যোগসাজশের মাধ্যমে জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জেনেশুনে এসব অনিয়ম অনুমোদন দেন। এতে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের বিপুল অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়।চারটি মামলাতেই বেক্সিমকো গ্রুপের পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সংশ্লিষ্ট গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং জনতা ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে।উল্লেখ্য, এর আগেও গত নভেম্বরে জনতা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা আত্মসাত ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে সালমান এফ রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করেছিল দুদক।

@crimeof24media

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ