শুক্রবার, জুন ১৯, ২০২৬

চকরিয়া বিদ্যুৎ অফিসে দুর্নীতির আখড়া, গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ ব্যাপক

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) কক্সবাজারের চকরিয়া নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) অনিয়ম দুর্নীতি আখড়ায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন গ্রাহক হয়রানি থেমে নেই। স্থানীয় ও গ্রাহকদের দাবি, চকরিয়ায় যোগদানের পর থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। খোদ নির্বাহী প্রকৌশলী নিজেই রক্ষক যেন ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছেন। বিভিন্ন অবৈধ লেনদেন ও এইচটি সংযোগ বাণিজ্য অর্থ আত্মসাৎ ও গ্রাহক হয়রানির এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন একই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান ও জাকির হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই চকরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক ভবন ও এইচটি (হাই ভোল্টেজ) ও প্রি-পেইড মিটার সংযোগকে পুঁজি করে ঘুষবাণিজ্যে মেতে উঠেছেন। নতুন সংযোগ প্রদান, লোড বৃদ্ধি এবং কারিগরি অনুমোদনের নামে তারা বিভিন্ন ভবন মালিকদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে ভুক্তভোগী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়রানির শিকার কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করেন।
নতুন সংযোগ নেয়া এডভেকেট এরফান উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, আমি একজন সমাজের সচেতন নাগরিক হওয়ার পরও প্রি-পেইড মিটার মোটা অংকের টাকা দিয়ে সংযোগ নিতে হয়েছে। টাকা না দিলে মাসের পর মাস সংযোগের জন্য অপেক্ষা করেও বিদ্যুতের সংযোগ পাওয়া যায় না। সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরেও সংযোগ প্রতি মোটা অঙ্কের ‘ঘুষ’ না দিলে ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়। এক্ষেত্রে টাকা নেয়া হলেও গ্রাহককে কোনো রসিদ দেয়া হয় না। নামপ্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভবনমালিক জানান, বিদ্যুৎ সংযোগের ফাইল ছাড়াতে গেলে তাদের সরাসরি অনৈতিক প্রস্তাব দেয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে কারিগরি ত্রুটির অজুহাতে সংযোগ বিলম্বিত হয়ে মাসের পর মাস হয়রানি করে।
ভুক্তভোগী বলেন, দ্রুত কাজ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে আমার কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নেয়া হয়েছে। কিন্তু বারবার তাগাদা দিলেও কোনো রসিদ দেয়া হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা হয়রানির ভয় দেখানো হয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। অভিযোগের সদুত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, পিডিবি’র ওয়েবসাইট দেখে আসেন এই বলে লাইনটি কেটে দেন।
অন্যদিকে, এ সিন্ডিকেটের নেপথ্য কারিগর হিসেবে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তার বিরুদ্ধে উঠা সিন্ডিকেটের ঘুষ ও অনিয়মের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চকরিয়ার সচেতন মহল মনে করছেন, এই দুর্নীতিবাজ চক্রের কারণে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।
@dailydighanta

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ