সোমবার, মে ৪, ২০২৬

অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন তুলছেন শিক্ষিকা

অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন তুলছেন শিক্ষিকা

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ছাতিয়ানী রোকেয়া ওবেদুল হক উচ্চবিদ্যালয়ের এক গণিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মাসে মাত্র একদিন বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় পুরো মাসের স্বাক্ষর করে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বেতন তুলে নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে না থেকেও কীভাবে তিনি প্রশাসনিক সুবিধা পাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বগুড়া সদরের আতাউর রহমানের মেয়ে আফরিনা রহমান ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও সার্টিফিকেট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এসটিআরসিএর সুপারিশে সহকারী শিক্ষক (গণিত) পদে নিয়োগ পান। তিনি একই বছরের ১ অক্টোবর বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তবে যোগদানের পর থেকে নিয়মিত পাঠদান করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জানান, যোগদানের পর আফরিনা রহমান মাত্র দুইদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। এরপর থেকে তিনি আর নিয়মিত আসেননি। কিন্তু প্রতিমাসেই বেতন উত্তোলন করেছেন। বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও তাকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত করানো যায়নি। বিষয়টি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তার বেতন বন্ধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা শুনেছে গণিত বিষয়ের একজন শিক্ষিকা নিয়োগ পেয়েছেন। কিন্তু তাকে কখনও শ্রেণিকক্ষে দেখেননি। গণিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়ায় দীর্ঘদিন শিক্ষক না থাকায় তাদের পড়াশোনায় প্রভাব পড়ছে। অনেকেই কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।

অভিভাবকদের দাবি, চাকরির প্রয়োজন না থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়া উচিত। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষক আফরিনা রহমান বলেন, তাকে বিনা বেতনে ছুটিতে রাখার জন্য প্রধান শিক্ষককে অনুরোধ করা হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। যে কয়েক মাসের বেতন উত্তোলন করেছেন, সেসব মাসের হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রীতিলতা বর্মন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

@asiapost

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ