
এসিএম নিউজ, ঢাকা
সাবেক ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের যুক্তরাজ্যে থাকা আরও ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যার দালিলিক মূল্য ২৭ কোটি ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২ পাউন্ড। বাংলাদেশি ৪৪৮৫ কোটি ৫৭ লাখ ২৩ হাজার ৮৮০ টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই নির্দেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান সাবেক ভূমি মন্ত্রীও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের এসব সম্পদ ক্রোকের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেন।
এর আগে সাবেক এই মন্ত্রীর যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ৮৯৮টি বাড়ি, ফ্লাট, অ্যাপার্টমেন্ট ও দোকান ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান ঘুষ দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের মধ্য দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করে দখলে রেখেছেন ও বিদেশে অর্থ পাচার করে সম্পদ অর্জন করেছেন। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে ও অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের ব্যাপক অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে। আবার মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম চলছে। সাইফুজ্জামান এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত ও তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের অনুসন্ধান চলাকালে সাইফুজ্জামান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের যুক্তরাজ্যে আরো ৫১৮ টি সম্পদ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এসব সম্পদ ফেরত আনা জরুরি। এজন্য সেগুলো ক্রেকের নির্দেশ প্রয়োজন।
শুনানি শেষে আদালত ক্রোকের নির্দেশ দেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে দুদককে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি সাতটি দেশের ৩১৮ টি বাড়ি ফ্ল্যাট অ্যাপার্টমেন্ট দোকান ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত বছর ৫ অক্টোবর সাইফুজ্জামান এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় থাকা ছয়টি ফ্ল্যাট ও নয়টি ভবন ক্রোকের নির্দেশ দেন ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত। গত বছর ১৭ অক্টোবর সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের নামে থাকা দেশ-বিদেশের ৫৮০ বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, জমিসহ স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ব্যাংকের হিসাব ও বাংলাদেশের একটি ব্যাংকের হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত ৫ মার্চ তাঁর ৩৯ টি ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ৯ মার্চ সাইফুজ্জামানের ১০২ কোটি টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ এবং ৯৫৭ বিঘা জমি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ৯ জুলাই
৫৭৬ কোটি টাকার বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ২৮ অক্টোবর ৪৪ কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তার আগে গত বছর ৭ অক্টোবর সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী রুকমিলা জামানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।
সম্প্রতি সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ রেড নোটিশ জারি করার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।

