রবিবার, মে ৩, ২০২৬

গৃহকর্মী মোহনাকে নি’র্যাত’ন: বিমানের বিদায়ী এমডি সাফিকুর কা’রাগারে, আরেক গৃহকর্মী সুফিয়ার দায় স্বীকার

এসিএম নিউজ, ঢাকা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমানের বাসায় শিশু গৃহকর্মী মোহনাকে নির্যাতন করা হতো। ওই বাশার আরেক গৃহকর্মী সুফিয়া বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে একথা বলেছেন।
আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবেরুনী মীরের খাস কামরায় জবানবন্দি দেন সুফিয়া বেগম। তবে বিমানের সাবেক এম ডি সাফিকুর রহমান পুলিশের কাছে ঘটনার দায় স্বীকার করলেও আদালতে স্বীকার করেননি।
শাফিকুর রহমান ও সুফিয়া বেগমকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে উত্তরা থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুবেল মিয়া দুইজনের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন। তাদেরকে বিচারকের খাস কামরায় নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর শাফিকুর রহমান জবানবন্দি অস্বীকৃতি জানান। পরে আদালত গৃহকর্মী সুফিয়া বেগমের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে দুজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ১০ ফেব্রুয়ারি সাফিকুর রহমানকে পাঁচ দিন ও সুফিয়া বেগমকে ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। পরে তাদের কারাগার থেকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে দুজনই গৃহকর্মী মোহনাকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেন। তারা স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
১১ বছরের শিশু গৃহকর্মী মোহনার বাবা গোলাম মোস্তফা গত ১ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামালায় সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বীথি, বাসার দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে তিনটার দিকে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা–পুলিশ। পরে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাফিকুর, তাঁর স্ত্রী বীথিসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযো বলা হয়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে সাফিকুর রহমানের বাসা। ওই বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর শিশুর দেখাশোনার জন্য অল্প বয়সী মেয়ে খুঁজছিলেন। পরে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তার দেখা হয়। মেয়ের বিয়েসহ যাবতীয় খরচ বহনের প্রতিশ্রুতি পেয়ে মোস্তফা গত বছরের জুনে তার মেয়েকে ওই বাসায় কাজে পাঠান। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় গিয়ে মোহনাকে দেখে আসেন তিনি। এরপর আর তাকে পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়। সেখানে বলা হয়, ৩১ জানুয়ারি বীথি ফোন করে মোস্তফাকে জানান, মোহনা অসুস্থ, তাকে যেন নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মোহনাকে আনতে যান গোলাম মোস্তফা। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফার কাছে মোহনাকে বুঝিয়ে দেন বীথি।
মোস্তফা মামলায় বলেছেন, তখনই তিনি মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম দেখতে পান। তার মেয়ে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছিল না। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বিমানের এমডি র স্ত্রী বীথি এর সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান মোস্তফা। মোহনা তাকে জানায়, ওই বাসায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে মারধর করার পাশাপাশি খুন্তি গরম করে শরীরে ছ্যাঁকাও দেওয়া হয়েছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ