
ধানমন্ডির ‘গৃহায়ন ধানমন্ডি’ প্রকল্পে ফ্ল্যাট বরাদ্দে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাবেক বিচারক ও সিনিয়র সচিবসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের এ জানান দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ধানমন্ডির ‘গৃহায়ন ধানমন্ডি’ প্রকল্পে ফ্ল্যাট বরাদ্দে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অনুসন্ধান শেষে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডি–১২ ও ডি–১৩ এবং সি–১২ ও সি–১৩ নম্বর চারটি ফ্ল্যাট একত্র করে দুটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট তৈরি করা হয়, যা প্রকল্পের প্রস্পেক্টাস ও বিদ্যমান বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অনুমোদিত মামলার আসামিরা হলেন: সাবেক অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ও দুদক-এর সাবেক কমিশনার মো. জহুরুল হক, সাবেক সিনিয়র সচিব ও দুদক-এর সাবেক কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক খান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান মো. দেলওয়ার হায়দার, একই সংস্থার সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শাহজাহান আলী, সাবেক সদস্য (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) ড. মো. মইনুল হক আনছারী, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা, নকশা ও বিশেষ প্রকল্প) বিজয় কুমার মন্ডল, সাবেক সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়) কাজী ওয়াসিফ আহমাদ এবং সাবেক রেজিস্ট্রার জেনারেল ও বর্তমানে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য সৈয়দ আমিনুল ইসলাম।
অনুসন্ধানের বরাতে দুদক জানায়, সংশ্লিষ্ট আসামিরা সরকারি দায়িত্বে বহাল থেকেও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মিথ্যা হলফনামা দেন। তারা পরস্পর যোগসাজশে রাষ্ট্রীয় মূল্যবান সম্পদ অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
দুদক জানায়, অভিযোগে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের উল্লেখ রয়েছে। এসব অভিযোগে একটি মামলা রুজু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
এছাড়া অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আরও ১০ জন ব্যক্তির অতিরিক্ত সম্পদ থাকার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে দুদক জানায়, তাদের সম্পদের সঠিক হিসাব ও উৎস যাচাইয়ের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

