রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২৬

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন: ফরিদপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেনের স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা

এসিএম নিউজ, ঢাকা

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করায় ফরিদপুর জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক যুবলীগ নেতা শাহাদৎ হোসেনের স্ত্রী তানিয়া আক্তার রুমার (৪৬) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত দুদকের গণশুনানিতে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করেন এক ব্যক্তি। যার পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি শাহাদৎ হোসেনসহ তাঁর স্ত্রীর সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেয় দুদক। এরপর একই বছরের ১৬ এপ্রিল সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শাহাদৎ হোসেনের স্ত্রী তানিয়া আক্তার রুমার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৮৮ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৬ টাকা মূল্যের। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে ২ কোটি ১২ লাখ ১১ হাজার ৭০৬ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তো পাওয়া যায়। অর্থাৎ ২৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৮০ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করা হয় হিসাব বিবরণীতে।
এ ছাড়া সম্পদ বিবরণীতে ব্যক্তিগত ঋণ, হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন থেকে ঋণ এবং ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে ঋণ ৭৮ লাখ ৩৬ হাজার ৬১৬ টাকা দেখানো হয়; কিন্তু দুদকের যাচাইকালে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আগেই তা পরিশোধ করা হয়েছে বলে উঠে আসে, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় অপরাধ সংঘটন করেছেন বলে মামলায় বলা হয়।
মামলায় আরও বলা হয়, আসামি তানিয়া আক্তার রুমা ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রথম আয়কর নথি খোলেন। ওই বছরে তিনি করযোগ্য আয় দেখিয়েছিলেন ৩ লাখ ৫ হাজার ৪৭৬ টাকা। পাশাপাশি বৈধ আয়ের পরিমাণ দেখিয়েছিলেন ৫৫ লাখ ১ হাজার ১৬২ টাকা এবং উক্ত সময়ে পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় দেখিয়েছিলেন ৩০ লাখ ৮০ হাজার ৪০০ টাকা।
এ ছাড়া ওই বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের আগে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন বলে উল্লেখ করেন। সেই হিসাবে ওই সময়ে তিনি ২৫ লাখ ৩০ হাজার ৭৬২ টাকা মূল্যের মোট সম্পদের মালিক ছিলেন। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানকালে ২ কোটি ১২ লাখ ১১ হাজার ৭০৬ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ উঠে আসে; যা আগের দাখিল করা সম্পদ বিবরণীর জ্ঞাত আয় থেকে ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদের অসংগতি রয়েছে যা অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ। অর্থাৎ রুমা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় অপরাধ সংঘটন করেছেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ