বুধবার, এপ্রিল ২৯, ২০২৬

আশুলিয়া এসিল্যান্ড অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ: নাজির ও নৈশপ্রহরীর দৌরাত্ম্যে জিম্মি সেবাপ্রার্থীরা

সরকার যেখানে ভূমি সেবা ডিজিটাল করে জনদুর্ভোগ কমানোর কথা বলছে, সেখানে ঢাকার আশুলিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় যেন ঠিক তার উল্টো চিত্র তুলে ধরছে। অভিযোগ রয়েছে, এই অফিসে সরকারি নিয়ম নয়, বরং নাজির ও নৈশপ্রহরীর ইশারাতেই চলে নামজারিসহ গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজ। টাকা ছাড়া এখানে নড়ে না ফাইল, মেলে না প্রতিকার।

সরেজমিন অনুসন্ধান ও একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগে জানা গেছে, আশুলিয়া ভূমি অফিসের নাজির সোহান হাওলাদার, নৈশপ্রহরী মানিক মিয়া এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ উমেদার আলমগীর শিকদার ঝন্টুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। কে কখন ফাইল জমা দিতে পারবে, কার কাজ কত দিনে হবে—সব সিদ্ধান্তই নেন এই চক্রের সদস্যরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসি ল্যান্ড অনুপস্থিত থাকলে নৈশপ্রহরী মানিক মিয়াকে তাঁর কক্ষে বসে সরকারি কম্পিউটার ব্যবহার করে নামজারি ও সংশ্লিষ্ট কাজ করতে দেখা যায়। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, কানুনগো জহিরুল ইসলামের সরকারি আইডি নিয়ন্ত্রণ করেন উমেদার ঝন্টু, যা তথ্য নিরাপত্তা নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।

সরকার নির্ধারিত ফি যেখানে মাত্র ১ হাজার ১০০ টাকা, সেখানে আশুলিয়া ভূমি অফিসে ঘুষের অলিখিত রেট চার্ট অনেক বেশি—
সাধারণ নামজারি: ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা,
পার্ট খাস জমি: ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা,
এলএ ও ‘খ’ তালিকাভুক্ত জমি: ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, টাকা না দিলে শুনানিতে অনুপস্থিত দেখানো, কাগজে ত্রুটির অজুহাত তুলে ফাইল বাতিল করে দেওয়া হয়। অথচ সিন্ডিকেটকে টাকা দিলে জটিল ফাইলও দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।

লাভলী নামের এক নারী অভিযোগ করেন, নামজারি করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নৈশপ্রহরী মানিক মিয়া তাঁর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেন। পরে কাজ না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে মাত্র ১ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। বাকি টাকা ‘অন্যত্র খরচ হয়েছে’ বলে জানিয়ে দেওয়া হয়।

আরেক ভুক্তভোগী আমির হোসেন জাকির বলেন, টাকা দেওয়ার পর তিনি নিজ চোখে মানিক মিয়াকে এসি ল্যান্ডের কক্ষে বসে সরকারি কম্পিউটারে কাজ করতে দেখেছেন।

এই অনিয়ম নিয়ে আগে সংবাদ প্রকাশ হলে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করেন (মিস মামলা নং ০১/২৫, আশুলিয়া আমলী আদালত)। কিন্তু মামলার পরও সংশ্লিষ্ট চক্রের দৌরাত্ম্য কমেনি বলে অভিযোগ করছেন সেবাগ্রহীতারা।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার বলেন, নৈশপ্রহরী মানিক মিয়াকে কেবল চিঠি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকারি কম্পিউটার ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য এড়িয়ে যান।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এসিল্যান্ড অফিস নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

আশুলিয়ার সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ভূমি অফিসকে দালাল ও দুর্নীতিমুক্ত করতে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। নইলে ডিজিটাল ভূমি সেবার সুফল সাধারণ মানুষ কখনোই পাবে না।

@dailyswadhinsangbad

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ