
ঘুষ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সাইদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শায়লা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।দুদকের দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে মঙ্গলবার (২০ মে) মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল নুরুল আনোয়ার। তিনি বলেন, “অনিয়ম ও দুর্নীতি করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে দু’জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং একজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।”সিন্ডিকেট গড়ে দুর্নীতিদুদক সূত্রে জানা গেছে, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের বিতর্কিত তিন পরিচালক— আব্দুল্লাহ আল মামুন, তৌফিকুল ইসলাম খান ও সাইদুল ইসলাম—দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন। এর মধ্যে আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তৌফিকুল ইসলাম খান দুদকের মামলায় চার্জশিটভুক্ত হওয়ায় তাদের বরখাস্ত করেছে মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলো।প্রকাশ্যে ঘুষ ও অবৈধ পাসপোর্ট ইস্যুর অভিযোগমামলার অভিযোগে বলা হয়, সাইদুল ইসলাম ময়মনসিংহ পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত থাকাকালে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ব্ল্যাংক পাসপোর্ট ও ভুয়া এনওসির মাধ্যমে জরুরি পাসপোর্ট ইস্যু করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন। সাধারণ ফি’তে জরুরি পাসপোর্ট দিয়ে প্রকাশ্যেই ঘুষ গ্রহণ করতেন তিনি।নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড়অভিযোগ অনুযায়ী, অবৈধ আয়ে তিনি নিজ এলাকা সাঁথিয়ায় ১০ বিঘার বেশি পুকুর, কাশিয়ানি বাজারে ভবনসহ ১০ শতাংশ জমি, ২০ বিঘার বেশি জমিতে ফার্ম, নরসিংদীতে ২৯ ও ৬৫ শতাংশ জমির ওপর কারখানা, উত্তরায় প্লট ও ফ্ল্যাট, বছিলা ভেড়িবাঁধ এলাকায় প্লট, শ্যাওড়াপাড়ায় ১৭ কাঠা জমি, মোহাম্মদপুর ইকবাল রোডে ২২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট এবং ধানমন্ডিতে একাধিক ফ্ল্যাট কেনেন। এসব সম্পদের বড় অংশই নামে-বেনামে অর্জিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।এছাড়া কারখানা স্থাপনের জন্য মেঘনা নদীর তীরে সাত বিঘা জমি কেনার তথ্যও উঠে এসেছে দুদকের অনুসন্ধানে। তদন্তে প্রায় ৩০ কোটি টাকার অবৈধ আয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও দোকানদুদকের নথি অনুযায়ী, সাইদুল ইসলামের নামে ঢাকার—উত্তরায় ১৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট (মূল্য ১ কোটি ১০ লাখ টাকা),ধানমন্ডিতে ২০০০ বর্গফুটের প্লট (২ কোটি টাকা),গ্রিন রোডে ১২৫০ বর্গফুটের তিনটি ফ্ল্যাট (প্রতিটি ৮০ লাখ টাকা),লালমাটিয়ায় ১৩০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট (১ কোটি ২০ লাখ টাকা),ইন্দিরা রোড ও শান্তিনগরে একাধিক ফ্ল্যাট,নীলক্ষেতে দুটি দোকান (মূল্য ২ কোটি ২০ লাখ টাকা),বিভিন্ন ব্যাংকে ৬৪ লাখ টাকার এফডিআর রয়েছে।কিছু সম্পদ ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও স্বজনদের নামে কেনা হলেও অর্থ পরিশোধ করেছেন সাইদুল ইসলাম নিজেই—এমন তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।আরও তদন্ত চলমানঅধিদপ্তর সূত্র জানায়, এই সিন্ডিকেটের কারণে পাসপোর্ট অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ অমান্যসহ বর্তমান মহাপরিচালকের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে।দুদক জানিয়েছে, অধিদপ্তরের আরও কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধেও মামলা ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
@crimeof24

