বৃহস্পতিবার, জুলাই ২, ২০২৬

কক্সবাজার সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগে প্রধান সহকারী সমরেশসহ ১৫ জন নকল নবিশ বরখাস্ত

কক্সবাজার সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের প্রধান সহকারী সমরেশ দে কে সাময়িক বহিষ্কার করেন জেলা রেজিস্ট্রার। তিনি এখন ওএসডি হয়ে জেলার রেজিস্ট্রার কার্যালয় রয়েছে বলে জানা গেছে। অনিয়ম দুর্নীতির দায়ে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
বিষয় টি নিশ্চিত করেছেন জেলা রেজিস্ট্রার কক্সবাজার মো: মনিরুল ইসলাম।
তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর সাব রেজিস্ট্রারের  কার্যালয়ে যোগদানের পর থেকে তিনি নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করার একাধিক অভিযোগ উঠেছে, একই সাথে চাকরির বিধিবিধান লঙ্ঘন করেছেন তিনি। তবে তার আশ্রয় প্রশ্রয়ে গড়ে ওঠা নৈশ প্রহরী নবাব মিয়া ও অফিস সহায়ক(টিপ সয় ম্যান) বহাল তবিয়তে রয়েছে। তারা প্রতি দলিল থেকে হাজার অধিক টাকা না পেলে দলিল ছাড়ে না বড়কর্তার টেবিলে। নবাব মিয়া ও মানিক পাল সেবা প্রার্থীদের কাছ থেকে ঘুষের টাকা  টাকা নেওয়ার প্রতিবেদকের কাছে  কাছে ভিডিও রয়েছে।
এ বিষয়ে নৈশ প্রহরী নবাব মিয়াঁ ও অফিস সহায়ক মানিক পালের কাছে সরাসরি কথা বললে তারা জানান সংবাদ প্রকাশ হলে আমাদের কিছু করতে পারবে না আমাদের উপরে হাত রয়েছে। টাকাগুলি আমরা একাই খাই না অফিসের সবাই মিলে খাই। এমন দাম্বিক বক্তব্য তাদের।
অপরদিকে গত কয়েক মাস আগে, অফিসের বিধি-বিধান লঙ্ঘন ও অনিয়মের দায়ে আরো ১৫ জন নকল নবিশ কে সাময়িক বহিষ্কার করেছে  বলে জানাগেছে। সাময়িক বহিষ্কার হওয়া নকল নবীশরা হলেন, মোআয়াত উল্লাহ,মোহাম্মদ ইমাম হাসান, মোহাম্মদ বখতিয়ার উদ্দিন,মো হাম্মদ নাসির উদ্দিন,মফিজুর রহমান,অমল বড়ুয়া, কাজল কান্তি দে, বরুন কান্তি দে, সরল দাশ, চকরিয়া অফিসের তিনজনের নাম পাওয়া যায়নি। ঘুষ দুর্নীতির অভয়ারণ্য কক্সবাজার রেজিষ্ট্রি অফিস শিরোনামে দৈনিক কক্সবাজার ৭১ একটি সংবাদ প্রকাশ করার সচেতন মহল ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ঘুষ দুর্নীতির নিরাপদ সরকারী দপ্তর হয়ে উঠেছে কক্সবাজার রেজিষ্ট্রি অফিস। এ অফিসের সর্বত্র নিবন্ধন আইন বিরোধী নানা কর্মকান্ড বিদ্যমান । এসব শাখার কর্তাদের সকলেই অবৈধ আয়ে মশগুল। প্রতিনিয়তই শাখার কর্তারা দাতা গ্রহীতা সেবা প্রার্থীদের পকেট কাটছে। জমি রেজিষ্ট্রি থেকে শুরু করে নিবন্ধনের ১৭টি কর্মকান্ডে তারা সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ নিচ্ছে। সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের আমলাখানার সহকারীদের চাহিদা পূরণ না করলে জমি রেজিষ্ট্রি ও অন্য সকল কর্মকান্ড সম্পাদনে সেবা প্রার্থীরা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
সিন্ডিকেটে রয়েছে অফিসের মোহরার, নকলনবিশ, দলিল লেখক থেকে শুরু করে গুটি কয়েক দালালও।
প্রধান সহকারী সমরেশ জমির মৌজা বুঝে দাতা গ্রহীতাদের ঘুষের প্রস্তাব দিতেন। তার এ চাওয়ায় বিপত্তি ঘটালে ঐ জমি নির্দিষ্ট দিনে রেজিষ্ট্রি নিবন্ধিত হতো না। তিনি ঘুষ কান্ডে সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করতেন। এ চিহ্ন দেখেই সাব রেজিষ্ট্রার নিবন্ধনে স্বাক্ষর নতুবা ঐ দলিল বাতিল করে দিতেন। এতে করে সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে কর্মঘন্টাকালীন নানা বাদানুবাদ ও বিশৃংখল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো।
এর মধ্যে প্রহরী নবাব ও অফিস সহায়ক মানিক পালের মাধ্যমে গোপন লেনদেন সম্পাদন করতেন এ সিন্ডিকেট। শুধু ঘুষ দুর্নীতি নয় এ অফিসে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারও বেড়ে গেছে। এসব নিয়ন্ত্রণেও ভুমিকা নেই উর্ধ্বতনদের।
সরকারী নিয়মে দলিলের নকল উত্তোলনে ১ থেকে ২ মাস পর্যন্ত সময় লাগলেও মোটা অংকের টাকা পেলে তারা ২-৩ দিনের মধ্যে তা সরবরাহ করেন। সাব রেজিষ্ট্রার কর্তৃক সপ্তাহে দুইদিন মহাফেজখানা পরিদর্শনের নিয়ম থাকলেও কালে ভদ্রে তা পালিত হয় এ অফিসে।  নিয়মিত পরিদর্শন না হওয়ায় নকলনবিশরাও সরকারী কাজে ফাঁকি ও অবহেলার সুযোগ পাচ্ছেন। গত তিন মাস পূর্বে এরকম অভিযোগে প্রায় ১৫ জন নকল নবিশকে সাময়িক বহিস্কার করা হলেও রেজিষ্ট্রি অফিসের গুটি কয়েক দুর্নীতিবাজদের সহযোগিতায় তারা আবারও নিজ কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন। এ অফিসে রেজিষ্ট্রি কাজে ২% ঘুষ ব্যতীত দলিল নিবন্ধন করা হয় না। তবে প্রভাবশালী ও কতিপয় রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেন এ অফিসের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট। ঘাপলা থাকা দলিলে ঘুষের রেটও বেড়ে যায়।
একই অফিসে মোস্তফা নামের আরেকজনের বিরুদ্ধে দাতা গ্রহীতাকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এ পর্যন্ত। শুধু তাই নয় নিবন্ধনের জন্য প্রস্তুতকৃত দলিলে জাতীয় পরিচয় হালানাগাদ সহ নানা প্রত্যয়নে গুজামিল রয়েছে বলে ঐ দলিল নিবন্ধন হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন অফিসের কর্তারা। এসব বিষয়ে সদর সাব রেজিষ্ট্রির বক্তব্য জানতে চেয়ে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কল গ্রহণ না করায় বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি।

©Dainik Amader Bangla

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ