শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬

বিচারপতি রেজাউলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসানের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ করা হয়েছে। দুর্নীতি, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক সোমবার এ আবেদন করেন

আবেদনে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে বিষয়টি তদন্তের অনুরোধের পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংবিধানের আওতায় এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ চাওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসানের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে একটি অভিযোগ এসেছে। অভিযোগটি কাউন্সিলে উপস্থাপন করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ২০১০ ও ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের দুটি কোম্পানি মামলার কার্যধারায় পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন। এক মামলায় সংশ্লিষ্ট সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত না থাকলেও রায়ে তার নামে যুক্তিতর্ক উল্লেখ করা হয়, যা পরে আপিল বিভাগে বাতিল হয়। অন্য মামলায় আবেদনকারীর স্ত্রীকে পক্ষ না করেই তার ১৩ লাখ শেয়ার বাতিল হয়, যা আবেদনকারীর দৃষ্টিতে ন্যায়বিচারের নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও তার নিকটাত্মীয়দের সম্পদের পরিমাণ ঘোষিত আয়ের চেয়ে বহুগুণ বেশি উল্লেখ করে সেখানে বলা হয়, যা দুর্নীতির ইঙ্গিত বহন করে।

আবেদনকারী কে এম মজিবুল হকের দাবি, এই বিচারপতি ও তার পরিবারের সম্পদের তথ্য, যানবাহন, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, কর নথির তুলনামূলক বিশ্লেষণে আয়ের সঙ্গে সম্পদের অস্বাভাবিক অসামঞ্জস্য প্রকাশ পেয়েছে। অভিযোগে বিচারপতি হাসানের ছেলের বেপরোয়াভাবে বিএমডব্লিউ গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা, এরপর ভিকটিমের পরিবারকে নানাভাবে চাপে রাখা কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথাও অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিচারপতি রেজাউল হাসানের নিয়োগের সময় তার ইনকাম ট্যাক্স রিটার্নে সম্পদের পরিমাণ ছিল এক কোটি ৪৯ লাখ টাকা। সর্বশেষ হিসাবে দেখা যায়, তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ৮৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। বিচারপতির স্ত্রীর মোট সম্পদ ছিল ২৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা, বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ছয় কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি। বিচারপতি রেজাউল হাসানের বিচারক হিসেবে নিয়োগের সময় তার পুত্রের কোনো আয় ছিল না, বর্তমানে সেই পুত্রের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চার কোটি পাঁচ লাখ টাকার বেশি। তার মায়ের সম্পদের পরিমাণও ১৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ