সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬

দুর্নীতিতে দখল হওয়া জুট মিল ফেরতে নতুন পর্ষদ অনুমোদন দিচ্ছে না জনতা ব্যাংক

” জনতা ব্যাংকের পিএলসি কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা মাধ্যমে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দীর্ঘদিন দখলে নর্থ বেঙ্গল জুট মিলস (প্রা:) লি “- দুর্নীতির নেতৃত্বে জিএম আব্দুল মতিন-ক্রেডিট কমিটিরজনতা ব্যাংক পিএলসি। আওয়ামী লীগের দোসর এই মতিন একায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠ এত বড় সরকারি ব্যাংকের!
প্রকৃত মালিকপক্ষ এখনো পাননি বৈধ মালিকানা ফেরত।

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের মিঠাপুকুরে অবস্থিত নর্থ বেঙ্গল জুট মিলস (প্রা:) লি.–কে ঘিরে মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, সংঘাত ও আইনি যুদ্ধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মালিকপক্ষের দাখিলকৃত হলফনামা, নথিপত্র এবং আদালতে চলমান কোম্পানি ম্যাটার নং ১৭**/২০২৫–এর আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে—২২/০২/২০২৪ তারিখে মিলটি একটি প্রভাবশালী চক্রের সহায়তায় “অবৈধভাবে দখলে নেওয়া হয়”।

RJSC কর্তৃক যাচাই শেষে Form IX, Form XII ও Schedule X ইস্যু করার পরও মিলটি এখনো প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত যায়নি। ১৩/১১/২০২৫ তারিখে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়ার পরও অনুমোদন ঝুলে আছে।
“ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ”
মালিকপক্ষের অভিযোগে বলা হয়েছে—জনতা ব্যাংক পিএলসি’র কিছু কর্মকর্তা তাদের দায়িত্ব অতিক্রম করে একটি দখলকারী চক্রকে সহায়তা করেন। অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে:

ক্রেডিট ডিভিশনের জিএম আব্দুল মতিন

এন্ড্রুজ ডিপার্টমেন্টের এজিএম মোঃ সিরাজুল ইসলাম

প্রিন্সিপাল অফিসার মোঃ ইমরান হোসেন

রংপুর কর্পোরেট শাখার তৎকালীন এজিএম মোঃ শামীম

এছাড়া অভিযোগে মিলটির পালাতক জুলাই হত্যাকান্ডের আসামি যুগ্ন আহবায়ক রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগ সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কাশেম, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলরাম শাহ, ওয়াহেদ চৌধুরী এবং সেই সময়কার ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ জব্বারের নামও উঠে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে—“মোটা অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের বিনিময়ে দখল প্রক্রিয়াকে সহায়তা করা হয়েছে।”

(উল্লেখ্য: উক্ত অভিযোগসমূহ আদালতে বিচারাধীন, এবং সংশ্লিষ্ট কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য দেননি।
আইনি প্রক্রিয়া: মালিকপক্ষের দাবি নথিভুক্ত ও আদালতে উপস্থাপিত

মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে—ব্যাংক কোন বৈধ আইনি কারণ ছাড়াই RJSC যাচাইকৃত নথিপত্র আমলে নেয়নি। মালিকপক্ষ দাবী করছে—এতে Companies Act, Bank Company Act এবং প্রশাসনিক কার্যদায়িত্ব–সংক্রান্ত আইনি বিধান লঙ্ঘনের সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মিলটি দীর্ঘদিন বন্ধ ও দখল অবস্থায় থাকায় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া-
শ্রমিকরা জানান—“দখল অবস্থার কারণে আমরা নিয়মিত কাজ পাচ্ছি না। কার কাছে যাব, কে দায়িত্ব নেবে—তা জানি না।” স্থানীয় বাজার ও ব্যবসায়ীরা মিলের স্থবিরতার কারণে আর্থিক প্রভাব পড়ার কথা জানিয়েছেন।
পরবর্তী শুনানির দিকে নজর
চলমান কোম্পানি ম্যাটার ১৭**/২০২৫–এর পরবর্তী শুনানিতে আদালত কী নির্দেশ দেবে, তা-ই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মালিকপক্ষ আশা করছে—আদালতের নির্দেশনায় মিলটির বৈধ মালিকানা দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ