
সড়ক, কালভার্ট ও সেতুর কাজ না করেই পিরোজপুরের মহারাজ পরিবার পকেটে ভরেছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) আটটি প্রকল্পের ৯১২ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই পরিবারের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে উন্নয়নকাজগুলোর বাস্তবায়ন দেখানো হয়। বাস্তবে দুদক এসব কাজের অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি। একই অভিযোগ থাকা আরও ৯টি প্রকল্পের উন্নয়নকাজের তদন্ত চলছে, যার টাকার পরিমাণ দেড় হাজার কোটি টাকা।
পিরোজপুরের সাবেক এমপি মো. মহিউদ্দীন মহারাজের পরিবার আওয়ামী লীগের শেষ ১০ বছরে মহাদাপটে নিয়ন্ত্রণ করেছে জেলার রাজনীতি ও প্রশাসন। পরিবারটির অঢেল টাকার কাছে সবাই ছিল অসহায়। টাকার উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও দালিলিক কোনো প্রমাণ ছিল না। এখন দুদকের তদন্তে তাদের টাকার উৎস বের হতে শুরু করেছে।
জানা গেছে, সড়ক, কালভার্ট ও আয়রন সেতু নির্মাণে ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ৭২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। ৩৮৩টি স্কিমে কাগজপত্রে প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেখিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় দুদকের আটটি মামলায় মহারাজ ও তাঁর পরিবারের চারজনসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়। সহযোগিতা করায় পিরোজপুরের এলজিইডি ও হিসাবরক্ষণ বিভাগের আসামি হয়েছেন ২২ জন। গত ১৫ এপ্রিল মামলার পর এলজিইডির হিসাবরক্ষক, জেলা হিসাবরক্ষক কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখন তারা পিরোজপুর কারাগারে।
মামলার বিবরণীর তথ্যমতে, পিরোজপুর জেলা পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরসহ গত বছরের জুলাই পর্যন্ত বরাদ্দ হয়েছিল ৯০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ৩১টি ভুয়া স্কিমের মাধ্যমে ৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

