বুধবার, জুলাই ১, ২০২৬

‘সার আমদানিতে নজিরবিহীন দুর্নীতি’র অভিযোগের ব্যাখ্যা দিলো কৃষি মন্ত্রণালয়

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে ‘সার আমদানিতে নজিরবিহীন দুর্নীতি’ কিংবা ‘সরকারি অর্থ লোপাটের অভিনব উদ্যোগ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কৃষি মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় (জি-টু-জি) এবং বেসরকারি আমদানিকারকদের মাধ্যমে নন-ইউরিয়া সার আমদানির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০১৫ সালে জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে ক্রয়াদেশ দেয়ার মাধ্যমে সার আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দর যাচাইয়ে বিএডিসির আমদানি করা সারের মূল্য এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বুলেটিন— আরগুস এফএমবি এবং ফার্টিকন—এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক মূল্য তালিকা অনুসরণ করা হয়।
 
এতে উল্লেখ করা হয়, অতীতে সর্বনিম্ন দরদাতার পাশাপাশি দ্বিতীয় ও তৃতীয় দরদাতাদের কাছ থেকেও একই সারের জন্য উচ্চ মূল্যে ক্রয় করতে হত, যা সরকারের বিপুল ক্ষতির কারণ ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কেবল সর্বনিম্ন দরে সরবরাহে সম্মতি দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রয়াদেশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে সক্ষম হয়েছে এবং অস্বাভাবিক মুনাফার সুযোগ বন্ধ হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, কোনো একক দেশের পক্ষে একসঙ্গে সম্পূর্ণ চাহিদা মেটানো সম্ভব নয় বলে দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন দেশ থেকে সার আমদানি করা হয়ে থাকে। ভৌগোলিক দূরত্ব ও পরিবহন খরচের কারণে সিএফআর মূল্য দেশভেদে ভিন্ন হয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়ম। জাহাজ ভাড়া বাদে এফওবি এবং সিএফআর উভয় মূল্যের নির্ধারণ আন্তর্জাতিক বুলেটিনের ওপর ভিত্তি করেই হয়ে থাকে।
 
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পর্যায়ে ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টন টিএসপি, ২ লাখ ৫৫ হাজার টন ডিএপি এবং ৯০ হাজার টন এমওপি সরবরাহের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে একই সরকারি দরে ৯০ হাজার টন টিএসপি ও ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিএপি সরবরাহের কার্যাদেশ দেয়া হয়।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ