বুধবার, অক্টোবর 28, 2026

গাছ না লাগিয়েই কোটি টাকার বিল তোলার অভিযোগ, গণপূর্তের কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

সরকারি হাসপাতালের আঙিনায় একটি গাছও না লাগিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের আরবরিকালচার বিভাগের কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন গণপূর্তের প্রধান বৃক্ষপালনবিদ আবুল কালাম আজাদ।

দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার গণপূর্ত আরবরিকালচার বিভাগের উপ-বিভাগীয় কর্মকর্তার পদ থেকে মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করে মো. রুহুল কুদ্দুসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু বদলি যথেষ্ট নয়—তাঁর বিচার চাইছেন গণপূর্তের অন্য কর্মকর্তারা।

মূল অভিযোগ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানিকগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের আঙিনায় বৃক্ষরোপণের নামে বিল তোলা হলেও সেখানে কোনো গাছ লাগানো হয়নি। সরকারি স্থাপনায় সবুজায়নের প্রকল্পকে অর্থ আত্মসাতের মাধ্যম বানানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

অন্যান্য অভিযোগ

পত্রিকাটির দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ডিও লেটার ও দলীয় নেতাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মতো সংবেদনশীল স্থাপনায় পদায়ন নিশ্চিত করেছিলেন। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে জালভোটে সহায়তার অভিযোগও প্রতিবেদনে তোলা হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০০৯, ২০১১ ও ২০১২ সালের সরকারি নথিতে চাকরিতে অসদাচরণ, অর্থ আত্মসাৎ এবং অর্থঋণ আদালতের মামলায় তাঁর ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়ার তথ্য রয়েছে; তবু তিনি বারবার ব্যবস্থা এড়িয়ে গেছেন। ঢাকায় নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ গড়া এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।

সচেতন মহল শুধু বদলি নয়, দুদক ও মন্ত্রণালয়ের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অর্থ উদ্ধার ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্তের বক্তব্য

বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোয়াজ্জেম হোসেন ফোন ধরেননি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দুদক বা মন্ত্রণালয় কোনো তদন্ত শুরু করেছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। এগুলো অভিযোগ মাত্র; এসিএম স্বতন্ত্রভাবে এসব যাচাই করতে পারেনি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে এসিএম তা প্রকাশ করবে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ