
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ থাকার পরও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট, মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার আবু হানিফ মোহাম্মদ আবদুল আহাদ স্বপদে বহাল রয়েছেন। এ নিয়ে ব্যবসায়ী ও কাস্টমস-সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির সোমবারের (২৬ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস, রাজধানীর পোস্তগোলা, আখাউড়া স্থলবন্দর এবং সর্বশেষ ঢাকার ভ্যাট জোন—যেখানেই তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেই তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানি ও বিতর্কের অভিযোগ উঠেছে।
বিভিন্ন কর্মস্থলে অভিযোগ
পত্রিকাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম কাস্টমসে অসদাচরণের অভিযোগে সিঅ্যান্ডএফ কর্মীদের প্রতিবাদের মুখে তাঁকে বদলি করা হয়। ওই বদলির আদেশে তাঁর আচরণ সংশোধনের জন্য প্রশিক্ষণ একাডেমির মহাপরিচালককে নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
২০২১ সালে পোস্তগোলার একটি পাব ও রেস্টুরেন্টে শুল্ক গোয়েন্দা দলের অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় মদ্যপান এবং ব্যবসায়ীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। আখাউড়া স্থলবন্দরে দায়িত্বে থাকার সময় নিলামে কেনা কোটি টাকার বৈধ মালামাল জব্দ করার অভিযোগ রয়েছে; এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুনে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে এক ব্যবসায়ী তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পালিয়ে যাওয়ার পর পুনর্বহাল
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি কর্মস্থল ছেড়ে বিদেশে চলে যান। কিন্তু চলতি বছরের ৫ মার্চ অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে ‘অসদাচরণ ও কর্মস্থল থেকে পলায়ন’-এর অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে পুনর্বহাল করা হয়। কোন যুক্তিতে এই অব্যাহতি দেওয়া হলো, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
এই পদায়নের প্রতিবাদে গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে জাতীয় ক্রাইম রিপোর্টার সোসাইটি ও নাগরিক সমাজের একাংশ। ভুক্তভোগী ও সংক্ষুব্ধ নাগরিকেরা এই কর্মকর্তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণসহ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
অভিযুক্তের বক্তব্য
প্রতিবেদনে আবু হানিফ মোহাম্মদ আবদুল আহাদ, এনবিআর বা আইআরডির কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি। চাঁদা দাবির মামলাটির বর্তমান অবস্থা এবং দুদক অভিযোগটি আমলে নিয়েছে কি না, তা-ও প্রতিবেদনে জানানো হয়নি। এগুলো অভিযোগ মাত্র; এসিএম স্বতন্ত্রভাবে এসব যাচাই করতে পারেনি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে এসিএম তা প্রকাশ করবে।
তথ্যসূত্র: দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

