শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২৬

জা’ল মুক্তিযোদ্ধা সনদ, দুদকের তদন্ত চলমান; তবুও বদলিতেই সীমাবদ্ধ বেবিচকের পদক্ষেপ

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে প্রায় ২৫ বছর চাকরি করার অভিযোগে আলোচিত বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি, দুর্নীতি এবং সরকারি সুবিধা গ্রহণের মতো গুরুতর অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা সত্ত্বেও কেবল বদলির সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে।

বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বুধবার (৮ জুলাই) বেবিচকের প্রশাসন বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তিরান হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে শরিফুল ইসলামের বদলির নির্দেশ জারি করা হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, সিভিল সার্কেল প্রকল্পে কর্মরত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামকে পিডিকিউ অ্যান্ড কিউএস সার্কেলে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ওই সার্কেলে সংযুক্ত রেখে পরিচালক (এরোড্রাম স্ট্যান্ডার্ড), এফএস অ্যান্ড আর বিভাগে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১১ জুন প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০০১ সালে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে বেবিচকে নিয়োগ পান শরিফুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে তার চাকরিসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় চারটি পৃথক মুক্তিযোদ্ধা সনদের তথ্য পাওয়া যায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, সনদগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুর তারিখ, পৃথক স্মারক নম্বর এবং বিভিন্ন ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে। কোনো সনদে জেনারেল এম এ জি ওসমানীর, কোনোটি সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের, কোনোটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবং আরেকটিতে সেক্টর কমান্ডার আহাদ চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। অথচ সরকারি মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা ডেটাবেজে তার বাবার নাম না থাকায় সনদগুলোর বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। গত ১৬ জুন মন্ত্রণালয় থেকে বেবিচক চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

শুধু জাল সনদের অভিযোগই নয়, শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বেবিচকের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, কাওলা আবাসিক কোয়ার্টারের রক্ষণাবেক্ষণে অর্থ আত্মসাৎ এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ও তদন্তও চলমান রয়েছে।

এতসব অভিযোগ ও তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় তাকে শুধু এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে বদলি করায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বদলির আদেশে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ বা চলমান তদন্তের বিষয়ে কোনো উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি বদলিতেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে—এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ