
বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সময় টেলিভিশনের পরিচালক মোহাম্মদ হাসানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
৭ জুলাই ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইশরাত জাহান এ আদেশ দেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন সময় টেলিভিশনের সাবেক হেড অব মার্কেটিং আহসানুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের সাবেক সিনিয়র ম্যানেজার আয়েশা সিদ্দিকা, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক শম্পা রহমান এবং সাবেক চেয়ারম্যান মোরশেদুল ইসলাম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সময় টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন বাবদ আদায় করা প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মার্কেটিং বিভাগের সাবেক প্রধান আহসানুল ইসলাম ও সাবেক সিনিয়র ম্যানেজার আয়েশা সিদ্দিকা অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এ কাজে প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন ও বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিজ্ঞাপনের বিলের হিসাব চাওয়া হলে আহসানুল ইসলাম দীর্ঘদিন তা উপস্থাপন করেননি। পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে চাকরি ছেড়ে গেলেও তিনি হিসাব বুঝিয়ে দেননি। একই সময়ে চাকরি ছেড়ে যাওয়া আয়েশা সিদ্দিকাও কোনো হিসাব জমা দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিভাগের অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনদাতার কাছে প্রায় ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৮৩ টাকা পাওনা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই পাওনা অর্থ সংশ্লিষ্ট মার্কেটিং কর্মকর্তারা মওকুফ করে দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিল মওকুফ করা হয়েছিল। তবে ওই সিদ্ধান্তের পক্ষে কোনো বোর্ড সভার নথি উপস্থাপন করতে না পারায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, মামলার কার্যক্রমকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আদালত প্রাঙ্গণে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে আদালতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

