
শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর-২০২৫) লঙ্ঘন করে আরএফকিউ (RFQ), এলটিএম ও ওটিএম পদ্ধতির টেন্ডারে অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র ও অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিভাগটির বিভিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কাজে নিয়মবহির্ভূতভাবে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে সরকারের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বিপুল অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বিসিএস ৩২তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা অতীতে শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগে স্টাফ অফিসার (সহকারী প্রকৌশলী) এবং পরে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মতিঝিল সাবডিভিশন-২-এর অধীনে এজিবি কলোনির উচ্চ ভবন নির্মাণ প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন। ওই সময় বিভিন্ন নির্মাণকাজে অনিয়ম, ভ্যারিয়েশন এবং ঠিকাদারদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে পিরোজপুরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবেও দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন বিতর্কের জন্ম দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২-এর আওতায় বিভিন্ন দপ্তর ও স্থাপনার ছোট ছোট মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্যানিটারি, ড্রেনেজ, গাইডওয়াল, রং, লেক পরিষ্কার, হাঁটার পথ সংস্কার, ব্যারাক মেরামতসহ অসংখ্য কাজের জন্য পৃথক পৃথক আরএফকিউ আহ্বান করা হয়। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে পিজিআর ব্যারাক, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কমপ্লেক্স, আইসিটি টাওয়ার, জিয়া উদ্যান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিসৌধ এলাকা, ক্রিসেন্ট লেক, উচ্চমানের আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনার উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প। এসব কাজের বিপরীতে ১৩০০১৫৫৫, ১৩০১৬২৩, ১৩০০৯০২, ১৩০০৯০৮, ১৩০০৯৬১, ১৩০১৬২৫, ১৩০১৭৫২, ১৩০১৭৫৯, ১৩০১৫৭৫, ১৩০১৮১৩, ১৩০১৮১৪, ১২৯৯২০১, ১২৯৮৯৮৬, ১২৯৯১৯১, ১২৯৯২৪৬, ১২৯৯২১৩, ১২৯৯২৬১, ১২৯৯১৮১, ১২৯৯৬২২, ১২৯৯২৪৯, ১২৯৯২০৬, ১২৯৯৬৩১, ১২৯৯৬৯৮, ১২৯৯৭০০, ১২৯৯৬৯৬, ১২৯৯৭০৮, ১২৭২৪৭৫, ১২৪৪৩৭৭, ১২৪৪৩৯৯, ১২৪৪৩৩৯, ১২৪৪৩১৪ ও ১২৪৪৪২৫ নম্বরসহ একাধিক আরএফকিউ টেন্ডার আইডি ব্যবহার করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কোটেশন আহ্বানের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর-২০২৫)-এর ৯২(৬) ধারা অনুসরণ করা হয়নি। ওই ধারায় প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য যথাসম্ভব সর্বোচ্চসংখ্যক দরদাতার কাছ থেকে কোটেশন আহ্বানের কথা বলা হলেও, অভিযোগ রয়েছে যে ম্যাপিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিত ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এছাড়া আরএফকিউ প্রক্রিয়ায় পিপিআর-২০২৫-এর আরও বিভিন্ন বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে।
একই অর্থবছরে ওটিএম পদ্ধতিতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১২৯৫১৫৮, ১২৮০১২৮, ১২৭৩৯২২, ১২৮৩৪২৮, ১২৭৫২০২, ১২৭৫২৫৭, ১২৬৬৩১৫, ১২৭৫৭২৬, ১২৩৮৭০৩, ১২৩৮৪০৮, ১২২৩৯৫৯, ১২২১৫৩৭, ১১৫৬৮২৫, ১১২৪১২৬, ১১৫৭১০০, ১১৫৬৮১৭, ১১৩১৮৮৯, ১১৫৭০৫৬, ১১৫৮০৭২, ১২১৪৩২০, ১২১৪৩৮১, ১২১৮৮৯৭, ১২২১৬৪৪, ১২২৩৯৩৩, ১২২৩৯৯৬, ১২৪৫৮০০, ১২৪৫৭৫৩, ১২৪৫৫৫৭, ১২৪৫৫১২, ১২৬৬১৯০, ১২৬৬২৪৩, ১২৬৬২৫০, ১২৬৬১০৬, ১২৬৭০৮৪, ১২৬৮৩৭৩, ১২৭২৮০৬, ১২৭২৮০৭, ১২৭৫২৭৩, ১২৭৫২৩৫ ও ১২৬১৫৫০ নম্বর টেন্ডারের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ১২৬১৫৫০ নম্বর ওটিএম টেন্ডারের মাধ্যমে প্রায় ১২ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে জিয়া উদ্যানের সার্বিক পরিচ্ছন্নতার জন্য আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হলেও, একই ধরনের কাজের জন্য পরবর্তীতে একাধিক আরএফকিউ আহ্বান করে ভুয়া বিলের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাঠ কর্মকর্তা। তার দাবি, একই ধরনের কাজ বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে আরএফকিউ, এলটিএম ও ওটিএম পদ্ধতি ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে জিয়া উদ্যানের বিভিন্ন উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য প্রায় ৬ কোটি টাকার বরাদ্দ আসে। কিন্তু ওই বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ ঠিকাদারদের সঙ্গে অসদাচরণ, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা উপেক্ষা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

