রবিবার, মে ১৭, ২০২৬

ঢাকা কলেজের কর্মচারীর বি’রুদ্ধে বিপুল সম্পদের অ’ভিযোগ, তদন্ত দাবি স্থানীয়দের

ঢাকা কলেজের এক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব-প্রতিপত্তি ব্যবহার করে তিনি নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ঢাকা কলেজে কর্মরত থাকলেও মনির বিভিন্ন সময় নিজেকে সাংবাদিক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা কিংবা শিক্ষা অফিসের উচ্চপদস্থ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রভাব বিস্তার করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পরিচয় ব্যবহার করে প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন তিনি।

রাজধানীতে ফ্ল্যাট ও সম্পদের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর কালশী এলাকায় বহুতল ভবনে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে মনিরের। এছাড়া মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৭৮০ বর্গফুটের একটি অভিজাত ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একজন সাধারণ কর্মচারীর আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য নেই।

এছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তার নামে-বেনামে আরও সম্পদ থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ব্যাংকে বিপুল অর্থের অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংকে মনিরের প্রথম স্ত্রী রিমান নামে কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র, এফডিআর ও ব্যাংক আমানত রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব অর্থের উৎস অস্বচ্ছ এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রভাব খাটিয়ে এসব সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিংবা মনিরের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চুয়াডাঙ্গায় সম্পদের বিস্তার

নিজ জেলা চুয়াডাঙ্গাতেও মনিরের বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। শহরের মুসলিমপাড়ায় প্রায় ১৪ কাঠা জমির ওপর নির্মিত একটি বাগানবাড়ি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। এছাড়া লিনার মোড় এলাকায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার সম্পত্তির মালিকানা থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, চুয়াডাঙ্গা শহরে দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে একটি চারতলা ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সীমিত বেতনের একজন সরকারি কর্মচারীর পক্ষে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া কীভাবে সম্ভব।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ

মনিরের বিরুদ্ধে শুধু অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগই নয়, রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষা বিভাগে তিনি একটি প্রভাবশালী চক্রের সদস্য হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত বিরোধে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর এবং প্রভাব খাটানোর মতো ঘটনাতেও জড়িত ছিলেন তিনি।

এছাড়া এক ভ্যানচালকের স্ত্রীকে জোরপূর্বক নিজের কাছে রাখার অভিযোগ নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় ওই ভ্যানচালককে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আদালতের রায় বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নারী কেলেঙ্কারি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছেন মনিরুজ্জামান মনির।

তদন্তের দাবি

এলাকাবাসী ও সচেতন মহল মনিরুজ্জামান মনিরের সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাব, জমি ও ফ্ল্যাটের মালিকানা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে অনুসন্ধান চালানো হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

তাদের ভাষ্য, একজন সাধারণ কর্মচারীর পক্ষে এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া অস্বাভাবিক। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।

তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত মনিরুজ্জামান মনিরের ব্যক্তিগত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ