রবিবার, মে ১৭, ২০২৬

রাজশাহীতে ২১ তলা ভবনের নির্মাণকাজে বাধা, চাঁ’দা দাবির অ’ভিযোগ

রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল স্টেশন রোড এলাকায় নির্মাণাধীন ২১ তলাবিশিষ্ট ‘রাজশাহী টাওয়ার’ ভবনের কাজ বন্ধ করে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। জয়েন্ট ফ্যামিলি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের উদ্যোগে নির্মিত এই বহুতল আবাসিক ভবনটি রাজশাহীর অন্যতম উচ্চতম ভবন হিসেবে পরিচিত। ভবনটির মালিকানা রয়েছে প্রায় ১০০ জনের।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনের পাশেই অবস্থিত ‘হকস ইন’ নামের একটি আবাসিক হোটেলের মালিক এনাজুল হক অমি ভবন নির্মাণের কারণে তার হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি তুলে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী অর্থ না দেওয়ায় বুধবার জয়েন্ট ফ্যামিলি প্রোপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান তুহিনকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গালাগাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

ঘটনার পর এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এনাজুল হক অমি কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে নির্মাণাধীন ভবনে প্রবেশ করেন এবং নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পরে তারা মোস্তাফিজুর রহমান তুহিনকে জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অভিযুক্তরা স্থান ত্যাগ করেন। পরে আহত তুহিনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে মোট ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এর মধ্যে কয়েক ধাপে প্রায় ১৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এরপর আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার ভবনের রিটার্নিং ওয়ালের ঢালাই চলাকালে এসে কাজ বন্ধ করে দেন অভিযুক্তরা এবং টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করতে নিষেধ করেন।

ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, শুরু থেকেই বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। এ বিষয়ে আগে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেও (আরডিএ) অভিযোগ করা হয়েছিল। পরে আরডিএ পরিদর্শন শেষে ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। এরপরও হয়রানি বন্ধ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে অভিযুক্ত এনাজুল হক অমি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, নির্মাণকাজের কারণে তার হোটেল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এজন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি টাকা দাবি করেছেন। তিনি এর আগে প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও সেটিকে চাঁদা নয় বলে দাবি করেন। তবে তুহিনকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।

বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ