
ঢাকার সাভার উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে ঘুষ বাণিজ্য, অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, অফিসের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম ও হেলাল উদ্দিন একযোগে একটি চক্র গড়ে তুলে সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছেন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ভূমি মালিক ও সাধারণ সেবা গ্রহীতারা।
জানা গেছে, প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাস সাভার উপজেলায়। উপজেলার ২১৮টি মৌজার মধ্যে অধিকাংশ মৌজার বিডিএস কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে বড় বরদেশী মৌজাসহ কয়েকটি এলাকার চলমান কার্যক্রম ঘিরে সম্প্রতি অভিযোগ ও অসন্তোষ বেড়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সেটেলমেন্ট অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে বেঞ্চ সহকারী হেলাল উদ্দিন ও সাইফুল ইসলাম একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট হিসেবে কাজ করছেন। জমির পরিমাণ নির্ধারণ, খতিয়ান সংশোধন, শুনানি কিংবা রেকর্ড সংশোধনের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে নানা অজুহাতে অর্থ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রাখা, শুনানির তারিখ পিছিয়ে দেওয়া, জমি কর্তনের ভয় দেখানোসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেবা প্রত্যাশীরা জানান, অফিসের ভেতরে সরাসরি অর্থ লেনদেন না করে বাইরে দালাল ও পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের “ম্যানেজ” করার কথা বলে বাদী-বিবাদীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছেন হেলাল উদ্দিন ও সাইফুল ইসলাম।
একাধিক ভূমি মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অধিকাংশ সেবা গ্রহীতা স্থানীয় না হওয়ায় ভয়ভীতি দেখিয়ে সহজেই তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। টাকা না দিলে শুরু হয় জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা।
এছাড়াও সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অফিস সময়ের পরও কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন মৌজার গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও শুনানিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভূমি মালিকদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ যদি সরকারি সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার হন, তাহলে ভূমি সেবা ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করার সরকারি উদ্যোগ প্রশ্নের মুখে পড়বে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহল বলছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে সেটেলমেন্ট অফিসে দালাল ও সিন্ডিকেটনির্ভর কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

