শুক্রবার, মে ১৫, ২০২৬

খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়ক সংস্কারে অ’নিয়মের অ’ভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে বাড়ছে জন’দুর্ভোগ

খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা আঞ্চলিক সড়কের প্রশস্তকরণ ও সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম, ধীরগতি এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৩৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার এই প্রকল্পে বালুর পরিবর্তে পাহাড়ি মাটি মিশ্রিত বালু, নিম্নমানের ইট-পাথর এবং বিটুমিনের বদলে পোড়া মবিল ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে একদিকে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “এ এস রাশ ট্রেডিং (জেভি)” খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কের প্রশস্তকরণ ও মেরামতের কাজ পরিচালনা করছে। পর্যটনকেন্দ্র সাজেকসহ পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় প্রতিদিন এই সড়কে হাজারো যানবাহন চলাচল করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের পুরোনো ইট, পাহাড়ি বালু ও মাটি ব্যবহার করে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে যথাযথ মান বজায় না রেখেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে দীঘিনালার জামতলী এলাকায় নির্মিত একটি ব্রিজ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ব্রিজ নির্মাণেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, কাজ চলাকালে একাধিকবার আপত্তি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করে চলে যায়।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভারী পণ্যবাহী যানবাহনের নিয়মিত চলাচলের কারণে ব্রিজটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

শুধু খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কই নয়, খাগড়াছড়ি-পানছড়ি আঞ্চলিক সড়ক সংস্কার কাজেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, ২০২৩ সালে ২৫ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ১৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পায় “মনসুর কনস্ট্রাকশন” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগ রয়েছে, কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই প্রায় ২ কোটি ৮২ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও এখনো পুরো কাজ শেষ হয়নি। একইভাবে আরেকটি প্রকল্পে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা বিল পরিশোধের পর ঠিকাদার কাজ অসমাপ্ত রেখেই চলে গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাকসুদুর রহমানের যোগসাজশে বছরের পর বছর এসব অনিয়ম চলে আসছে। তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া, নিম্নমানের কাজের অনুমোদন এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দায়িত্বে বহাল থাকার অভিযোগও রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠান বারবার কাজ পাচ্ছে। ফলে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাকসুদুর রহমান ও সদর এসডি মো. কোরাইশীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের অফিসে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ স্থাপন সম্ভব হয়নি।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ