
জনদুর্ভোগ ও ঘুষ বাণিজ্যের কারণে দেশের সব ভূমি অফিসে সরকারি ডিজিটাল সেবা চালু করলেও সেই সেবা সাবলীলভাবে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে সাভারের ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। ডিজিটাল সেবা প্রবর্তনের পরও অনেকেই অভিযোগ করছেন— “কাজের গতি কম, গোপাল মন্থর”, “এই অফিসে ঘুষ ছাড়া নড়চড় হয় না”, “ফাইল মেলে না, সেবা মেলে না”।
আর তাই সেবাপ্রত্যাশীরা অভিযোগ করছেন, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) জাহাঙ্গীর আলমকে ঘুষ দিতে বাধ্য করছেন প্রভাবশালী দালালরা। দালালদের জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দিষ্ট ‘রেট’ অনুযায়ী সেবা পেতে হচ্ছে বলে দাবি উঠেছে।
ভুক্তভোগী আ. সোহান ও শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেন, নামজারি, খতিয়ান–খারিজসহ বিভিন্ন কাজের সরকারি ফি ১০০/৫০ টাকা হলেও জাহাঙ্গীর আলম ও তার ঘনিষ্ঠ দালাল সিন্ডিকেট ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। অনেক ক্ষেত্রে ফাইল মাসের পর মাস ঝুলে থাকে, সমাধানও মেলে না। তবে দাগ-নামজার বা ভোটার আইডি কার্ডে (NID) ভুল থাকলে সেবা পেতে বাড়তি অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।
সাভার উপজেলার প্রতিটি মৌজাতেই গত তিন মাসে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ভূমির মূল্য। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঘুষের হারও বাড়িয়ে দিয়েছেন দালালরা। অভিযোগ রয়েছে— জাহাঙ্গীর আলমের অধীনস্থ ভূমি কার্যালয়ে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে অনেক মালিক দ্রুত খতিয়ান পাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী মোশাররফ হোসেন বলেন, ভূমি অফিসগুলোতে নিয়ম অনুযায়ী (অনলাইন) ডিজিটালাইজড সেবা হলেও দালালদের কারণে ভোগান্তি কমছে না। ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন করলে দুই বছরের মধ্যে নামজারি বা খারিজের সরকারি ফি মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। কিন্তু দালালদের মাধ্যমে তদবির করলে জাহাঙ্গীর আলমের নির্দেশে সরকারি ফি’র বাইরে ১০/১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি দিতে হয় এবং ৩–৫ কর্মদিবসের মধ্যেই নামজারি, মিসকেসসহ সব কাজ “সমাধান” হয়ে যায়।

