শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬

যশোরে প্রধান শিক্ষক বিজয় মুখার্জির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু

যশোরের সুড়া গ্রামের বাসিন্দা নড়াইল সদর উপজেলার মালিয়াট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজয় মুখার্জির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের

অভিযোগ উঠেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে নিজ গ্রামে জমি জমি ক্রয় করে গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল বাড়ি, মাঠে কিনেছেন ৬/৭ বিঘা জমি।

স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর দাবি, তিনি প্রায় ১৮ বছর ধরে প্রধান শিক্ষক পদে থেকে বিদ্যালয়ের নানা কার্যক্রমে আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখেননি। এ ঘটনা নিয়ে তার নিজ এলাকার চায়ের দোকানে চলছে আলোচনা সমালোচনা।

সম্প্রতি এ অভিযোগের বিষয়ে টেলিভিশনে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে, বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজ, দাতা সংস্থার অনুদান এবং সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের একাধিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনার তথ্য সংগ্রহর জন্য আমাদের অনুসন্ধানী টিম বিগত কয়েকদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তে দেখা যায়, মালিয়াট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজয় মুখার্জির স্থায়ী ঠিকানা যশোর সদর উপজেলার শুড়া গ্রাম। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি কোনো ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে সম্প্রতি ওই গ্রামেই তিনি একটি আলিশান বাড়ি নির্মাণ করছেন, যার কাজ প্রায় শেষের দিকে। এই বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, তার আয়ের উৎস এত বড় নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ওই শিক্ষকের পৈতৃক ভিটা ছিল সাত শতক তাও আবার দুই ভাই বসবাস করতেন, পরবর্তীতে হয়েছেন ছয় থেকে সাত বিঘা জমির মালিক। শুড়া গ্রামে পুরানো বাড়ি থাকতে নতুন করে গড়ে তুলেছেন একটি বিলাসবহুল বাড়ি।
স্থানীয় অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের একাধিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের হিসাব গোপন রাখা হয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাতার অর্থ বণ্টনেও অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। “নড়াইলের মালিয়াট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির সংবাদ” শিরোনামে প্রচারিত একটি ভিডিওতে এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। ভিডিওতে একাধিক ব্যক্তি বলেন, “বিদ্যালয়ের উন্নয়নের অর্থ নয়ছয় করে দীর্ঘদিন ধরে নিজের সুবিধা নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক।”

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বিজয় মুখার্জি বলেন আমি কোনো দূর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত নয়, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির কয়েকজন সদস্য জানান, “অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তের আবেদন জানানো হবে।”

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এ ধরনের অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ