
পাঠ্যবই ছাপার কাজে ছাপাখানা মালিকদের জামানতের অর্থছাড়ে ‘বকশিশ বাণিজ্য’ নিয়ে জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন সদস্যের এ তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রথমেই তারা ১১৭টি ছাপাখানার মালিককে তলব করেছেন।
তবে তদন্ত কমিটি যে প্রক্রিয়ায় কাজ করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ছাপাখানার মালিকরা। তারা এটিকে ‘হয়রানিমূলক’ ও ‘লোক দেখানো’ তদন্ত বলে অভিযোগ করেছেন। আর এ ধরনের তদন্তকে ‘দায় থেকে পরিত্রাণের কৌশল’ বলে মনে করছেন খোদ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তারা।
শুধু ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৭০০ লট বইয়ের জামানতের প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়। ছাপাখানা মালিক ও এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন কৌশলী অনিয়মে প্রতিষ্ঠানটির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক ড. রিয়াদ চৌধুরীর দিকে সন্দেহের তীর ছুড়েছেন।
সংবাদ প্রকাশের পর এনসিটিবিতে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন এনসিটিবির চেয়রম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহবুবুল হক পাটওয়ারী।
এনসিটিবির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে জানান, রোববার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চেয়ারম্যান এনসিটিবিতে এসেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর তিনি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন।
কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে এনসিটিবির সচিব অধ্যাপক সাহাতাব উদ্দিনকে। সদস্য হিসেবে আছেন বিশেষজ্ঞ সদস্য আবুল খায়ের। আর সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপসচিব সিরাজুল ইসলাম।
এনসিটিবির উপসচিব ও তদন্ত কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পাওয়া সিরাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন চেয়ারম্যান। আমরা কাজ শুরু করেছি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

