
‘ক্যাসিনো ব্রাদার্স’ নামে খ্যাত ঢাকার গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা সাবেক সহ-সভাপতি এনামুল হক এনু এবং তার ভাই যুগ্ম সম্পাদক রুপন ভূঁইয়াকে অর্থপাচারের আরেক মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ-৮ এর বিচারক নুরে আলম ভূঞা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় প্রত্যেককে ৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে আরো ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে।
অপর দিকে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদের আট সহযোগীকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
এনু-রুপনকে রায় ঘোষণার আগে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানাসহ তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের পিপি মো. সেলিম খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, অবৈধ উপায়ে অর্জিত ২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা আড়াল করার জন্য গোপনে হেফাজতে রাখার অভিযোগে রাজধানীর ওয়ারী থানায় ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি র্যাব-৩ এর নায়েব সুবেদার রমজান আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০২১ সালের ৮ আগস্ট এনু-রুপন ও তাদের ৮ সহযোগীকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে ১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।
এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে করা আরেকি মামলায় এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়াকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক মাসুদ পারভেজ। তারও আগে ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল ওয়ারী থানায় অর্থপাচারের প্রথম মামলায় এনু-রুপনসহ ১১ জনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। একই সঙ্গে তাদের চার কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।
উল্লেখ্য ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গেণ্ডারিয়ার দুই ভাই, আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনু ও রূপন ভূঁইয়ার আস্তানা থেকে পাঁচ কোটি টাকা ও আট কেজি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছিল র্যাব। এরপর ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তাঁদের বাড়ির ভল্টে পাওয়া যায় সাড়ে ২৬ কোটি টাকা, এক কেজি স্বর্ণ, বিদেশি মুদ্রা ও পাঁচ কোটি টাকার এফডিআর। মানি লন্ডারিং মামলা তদন্ত করতে গিয়ে সিআইডি তাঁদের ১২১টি ফ্ল্যাটের সন্ধান পায়। দুই ভাইয়ের কর্মচারি কালামের বাসা থেকে দুই কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়।
২০২০ সালের ২০ আগস্ট রাজধানীর বংশাল এলাকায় এনু-রুপনের সহযোগী আবুল কালাম আজাদ ও হারুন-অর-রশিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে নগদ পাঁচ কোটি পাঁচ লাখ টাকা, সাড়ে আট কেজি স্বর্ণ ও ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে র্যাব। এরপর তাদের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে সে সময় অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ১২টি মামলা হয়।
এসব মামলার অভিযোগে বলা হয়, এনু ও রুপন দীর্ঘদিন ক্যাসিনো পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় তারা নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ বিভিন্নভাবে পাচার করেন।

