
একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) যান্ত্রিক সহকারী (মেকানিক) জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের তৃতীয় শ্রেণির একজন কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ বিষয়টি নিয়ে রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে একটি বেসরকারি দৈনিকের প্রতিবেদককে ফোনে অশালীন ভাষায় গালাগাল এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক তেজগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৮৬৮) দায়ের করেছেন।
অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চাকরিজীবনে প্রাপ্ত বেতন-ভাতার তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, তার স্ত্রী মনিরা আক্তারের নামে রাজধানীর মালিবাগ বাজার রোড ও ডিবিএল হাসনাহেনা গার্ডেন এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া ঢাকার বাসাবো এলাকায় একটি বহুতল ভবনের মালিকানার তথ্যও পাওয়া গেছে। পরিবারের ব্যবহারের জন্য একটি ব্যক্তিগত গাড়িও রয়েছে বলে জানা যায়।
শুধু রাজধানীতেই নয়, পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় জাকির হোসেনের নামে বা বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ থাকার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তার স্ত্রী মনিরা আক্তারের নামে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে।
রাজউকের একাধিক সূত্রের দাবি, জাকির হোসেন অতীতে আলোচিত ‘গোল্ডেন মনির’ সংশ্লিষ্ট একটি বিতর্কিত চক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ফাইল গায়েব হওয়ার বিভিন্ন ঘটনায় তার নাম উঠে এসেছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের আগে গোল্ডেন মনিরের বাসা থেকে স্বর্ণ ও নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাতেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, জাকির হোসেনের সম্পদের উৎস ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্ত পরিচালনা করা হলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

