সোমবার, জুন ৮, ২০২৬

মদনপুর ভূমি অফিসে ঘু’ষ-দু’র্নী’তির অ’ভিযোগ, সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় বিতর্কে কর্মকর্তা

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, ঘুষ গ্রহণ, জমিসংক্রান্ত অনিয়ম এবং তথ্য সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দায়িত্বের আড়ালে প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

চাকরিজীবনে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ

অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের একটি সাধারণ কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা হাবিবুর রহমান চাকরিজীবনে নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পর উল্লেখযোগ্য সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জের ভূমিপল্লী এলাকার ৩ নম্বর সড়কের ১৩ নম্বর বাড়িতে তার মালিকানাধীন একটি পাঁচতলা ভবনের পুরো একটি ফ্লোর রয়েছে, যেখানে চারটি আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সম্পদের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।

এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি চারতলা ভবনসহ নিজ নামে এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ থাকার অভিযোগও রয়েছে।

অফিস সময়ের পরেও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অফিস সময় শেষ হওয়ার পরও প্রায় নিয়মিতভাবে ভূমি অফিস খোলা রাখা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিসে বিভিন্ন কার্যক্রম চলতে দেখা যায়।

অভিযোগকারীদের দাবি, এ সময় সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের প্রবেশ সীমিত রেখে বিশেষ সুবিধাভোগীদের বিভিন্ন জমিসংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করা হয়। জমির রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিক লাঞ্ছনার অভিযোগ

সম্প্রতি ভূমি অফিসে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে দুই সংবাদকর্মীর সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে একজন ফটোসাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় আহত সাংবাদিককে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছেন হাবিবুর রহমান।

তাদের দাবি, অতীতে তিনি নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বিভিন্ন ক্ষমতাসীন মহলের নাম ব্যবহার করে নিজের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি এবং স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে।

দুদকের তদন্ত দাবি

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই ঘুষ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

তারা প্রশ্ন তুলেছেন, একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে কীভাবে হাবিবুর রহমান এত বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে সম্পদের উৎস যাচাইয়ের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ভূমি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ