রবিবার, মে ১৭, ২০২৬

স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃ’ত্যু কারাদণ্ড: ফের কন্যা সন্তান হতে পারে ভেবেই অন্তঃসত্তা স্ত্রীকে হ’ত্যা করা হয়

প্রথমবার মেয়ে, দ্বিতীয়বার যমজ মেয়ে, তৃতীয় বার মেয়ে হতে পারে ভেবে স্ত্রীকে হত্যা করা হয়। স্বামীর বিরুদ্ধে এই হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত ১৪ মে চট্টগ্রামের জন নিরাপত্তা ভিন্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (বিশেষ দায়রা জজ) মো. শাহাবুদ্দিন এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী সেকান্দর আলী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তি হলেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার হারামিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাচিয়াপারের গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মো. মামুন। পেশায় তিনি ভ্যানচালক।

৯ বছর আগের এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রায় ঘোষণার সময় আসামি মামুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। শুধু আমৃত্যু কারাদণ্ডই নয় স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ পোড়ানোর চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আরো সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর বা আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর তার সাজা কার্যকর হবে। তবে আসামি ইচ্ছা করলে রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে তিনি আপিল করতে পারবেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, মামুন ও একই এলাকার বাসিন্দা রাবেয়ার বিয়ে হয় ২০০৩ সালে। বিয়ের পর প্রথমবার তার স্ত্রীর কন্যা সন্তান হয়। দ্বিতীয়বার জমজ সন্তান হয় রাবেয়ার। ওই দুজনও কন্যা সন্তান। এরপর তিন কন্যার জননী রাবেয়া বেগম ছিলেন সাতমাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনার দিন ২০১৭ সালের ২৩ মে ঘরে ফিরলে রাবেয়া বেগম তার স্বামী মামুনের কাছে ওষুধ এনেছে কি না জানতে চান। মামুন ওষুধ না আনায় এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে মামুন রাবেয়ার তলপেটে লাথি মারেন। এতে রাবেয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে রাবেয়ার লাশ ভ্যানে করে পাশের একটি বিলে নিয়ে গিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন মামুন। এরপর রাবেয়ার বাড়িতে মামুন খবর পাঠান, রাবেয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

রাবেয়ার স্বজনরা অনেক খুঁজাখুঁজি করে বিলে তার লাশের সন্ধান পায়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। লাশের ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, রাবেয়ার গর্ভের দুটি সন্তানই ছিল ছেলে। এই ঘটনায় রাবেয়ার ভগ্নিপতি কামাল পাশা বাদী হয়ে সন্দ্বীপ থানায় হত্যা মামলা করেন।

সেদিন ঘটনার পর গ্রামবাসী মামুনকে ধরে পুলিশে দেয়। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মামুন স্ত্রীকে লাথি মেরে হত্যা ও বিলে লাশ নিয়ে গিয়ে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।এরপর আদালতে জবানবন্দি দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে নেন মামুন। তিনি জবানবন্দিতে জানান, তৃতীয়বার মেয়ে হবে ভেবে তিনি তার স্ত্রীকে লাথি মেরে খুন করেন। মামলা চলাকালীন মামুন জামিন পেয়ে এক পর্যায়ে পলাতক হন।

এই হত্য মামলার তদন্ত করে পুলিশ মামুন ও তার চাচা ইমাম হাফেজকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেয়। রায়ে ইমাম হাফেজের কোন দোষ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেন আদালত।
বিচার চলাকালে ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ