বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

সাতক্ষীরা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শেষ

বাদীকে ম্যানেজ করে নিজের অনিয়ম, দুর্নীতি ঢাকতে সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নড়াইল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান এসে সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে বাদী ছাড়া এ তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

এর আগে রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সাবেক কর্মচারী দবির উদ্দিনের দায়ের করা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রমে বাদীকে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে বাদী ছাড়া প্রহসন মূলক তদন্ত সম্পন্ন হয়। তবে এ বিষয়ে বাদী সাতক্ষীরা সদর থানার শ্যাল্যে গ্রামের আলী সরদারের পুত্র সাংবাদিক এস, এম রেজাউল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান তার স্ত্রী অসুস্থ হাসপাতালে থাকায় তিনি তদন্ত কার্যক্রমে সময় চেয়ে দরখাস্ত জমা দিয়েছেন।

তবে তদন্ত কার্যক্রমের ঘটনার সত্যতা জানার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নড়াইল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমানকে না পেয়ে তার ব্যবহৃত ০১৭০৮৪১৪১৩৯ নং মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

অনুরূপ ঘটনার আরো সত্যতা জানার জন্য অভিযুক্ত সাতক্ষীরা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রোকনুজ্জামানের ব্যবহৃত ০১৭০৮৪১৪২০৪ নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলেও বন্ধ পাওয়ায় কোন কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে সাতক্ষীরা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সায়েদুজ্জামান তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্নের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।এস এম রেজাউলের লিখিত অভিযোগের সূত্রে থেকে জানা যায়,সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শাল্যে গ্রামে অবস্থিত আবু জাফর সিদ্দিকীয়া এতিমখানা নামে একটি বেসরকারি ক্যাপিটেশন প্রাপ্ত এতিমখানা ছিল।

যার রেজিস্ট্রেশন নং ২৮০/৯৯। উক্ত এতিমখানার কার্যক্রম ২০০৮ সালের পর থেকেই সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তিতে মোঃ রোকনুজ্জামান তৎকালীন সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার হিসাবে গত ১৩/১০/ ২০১১ ইং তারিখে যোগদান করার পর থেকে শাল্যে আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার সহকারি মৌলভী কবির হোসেন ও তার সহযোগিদের জোগসাজশে ভুয়া রেজুলেশনে রোকনুজ্জামানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সোনালী ব্যাংক, সাতক্ষীরা শাখার চেকের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। রোকনুজ্জামানের সীমাহীন দূর্নীতির বিষয়ে তৎসময়ে একাধিক স্থানীয়, আঞ্চলিক ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ক্যাপিটেশন গ্রান্ট বিতরন রেজিষ্টারের তথ্যমতে ২০১৭ সালের পূর্বের বিতরনকৃত টাকার কোন রেকর্ড সেখানে নেই। উক্ত রেকর্ড রোকনুজ্জামান গায়েব করে দিয়েছে।
তবে ২০১৭- ২০১৮ ও ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ২,৪০,০০০ টাকা ভুয়া বিল ভাউচার দাখিল করে কবির হোসেন ও তার সহযোগিদের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে। অস্তিত্বহীন শাল্যে আবু জাফর সিদ্দিকীয়া এতিমখানার নামে রোকনুজ্জামান গত ২০১১ সালে সদর উপজেলায় যোগদান করার পর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কয়েক লক্ষ টাকা ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

 

আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ