বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো-৪ কার্যালয়ে লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা, মোটরযান নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কার্যালয়টির মোটরযান পরিদর্শক অনিমেষ মণ্ডল। একাধিক সেবাপ্রার্থী ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের নানা ধরনের হয়রানি, অযৌক্তিক বিলম্ব ও জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এর আগে বিআরটিএর যশোর কার্যালয়ে কর্মরত থাকার সময়ও অনিমেষ মণ্ডলের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছিল। ঢাকা মেট্রো-৪ কার্যালয়ে যোগদানের পরও একই ধরনের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বিআরটিএর নিয়ম অনুযায়ী লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরও অনেক পরীক্ষার্থীর ফলাফল অনলাইনে ‘ফেল’ দেখানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানালে কখনো সার্ভারের সমস্যা, কখনো ব্যবহারিক পরীক্ষায় ত্রুটি এবং কখনো পরীক্ষার খাতা ম্যাজিস্ট্রেট দেখেছেন—এমন বিভিন্ন কারণ দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে পুনরায় আবেদন করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিত দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিলে পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফল না থাকলেও পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এমনকি শুধু ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার মাধ্যমেই ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মোটরযানের নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ প্রদানের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সরকারি ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রাখা, কাজের অগ্রগতিতে বিলম্ব করা এবং বিভিন্ন অজুহাতে সেবাপ্রার্থীদের বারবার কার্যালয়ে আসতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
পরিবহন খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম বা দুর্নীতির বিষয় নয়; এর সঙ্গে সরাসরি সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত। ঘুষের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তির হাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স পৌঁছানো কিংবা ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনকে ফিটনেস সনদ দেওয়া হলে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
সেবাপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই হওয়া প্রয়োজন।
এ অবস্থায় বিআরটিএর সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগী সেবাপ্রার্থীরা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেছেন তারা।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com