চাঁদপুর জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. আলমগীর হোসেন এবং মতলব (দক্ষিণ) সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখক মো. মহসিন প্রধানের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ভুয়া হেবা দলিল তৈরির মাধ্যমে সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে গত ৫ আগস্ট ২০২৬ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং নিবন্ধন পরিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজিআর) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগে আলমগীর হোসেনের পদোন্নতিতে বিধি লঙ্ঘন, দলিল নিবন্ধনে অনৈতিক যোগসাজশ, উৎকোচ গ্রহণ এবং সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়নে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ২৮ মার্চ চাঁদপুর সদর উপজেলার কুমারডুগি এলাকার দলিল লেখক মো. মহসিন প্রধান অভিযোগকারীর বয়োবৃদ্ধ মা লতিফা খাতুনকে ভুল বুঝিয়ে একটি হেবা দলিল সম্পাদন করেন। দলিলটির নম্বর ১৫০৫। এতে উম্মে মারজানকে গ্রহীতা দেখিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. আলমগীর হোসেন আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে লতিফা খাতুন নিজে বাদী হয়ে ওই দলিল বাতিলের দাবিতে আদালতে মামলা করেন। ২০২৪ সালের ৩৪ নম্বর ওই মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগকারী সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও দাবি করেন, মো. আলমগীর হোসেন ২০০৪ সালে মাস্টার রোলের মাধ্যমে টিসি সহকারী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট নিয়োগবিধি অনুসরণ না করেই তিনি উচ্চমান সহকারী এবং পরে প্রধান সহকারী পদে পদোন্নতি পান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালের ২৯ মে স্মারক নম্বর ৬৩৫৬-২০-এর মাধ্যমে আলমগীর হোসেনকে নোয়াখালী জেলায় বদলি করা হয়। তবে তিনি যথাযথভাবে দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত না হয়ে তৎকালীন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করে চাঁদপুর কার্যালয়েই বহাল থাকেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও কয়েকটি অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—হেবা গ্রহীতার পরিবারের কাছ থেকে উমরাহ হজ পালনের কথা বলে অর্থ গ্রহণ, দলিল লেখক মহসিন প্রধানের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভাগীয় অভিযোগের তদন্তে প্রভাব বিস্তার, সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নের কথা বলে অর্থ আদায় এবং বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিলের ফাইল আটকে রেখে উৎকোচ আদায়ের অভিযোগ।
অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ২০২৩ সালের মে মাসে দলিল লেখক মহসিন প্রধানের বিরুদ্ধে আইজিআর কার্যালয়ে অভিযোগ করা হলেও আলমগীর হোসেনের হস্তক্ষেপে তদন্ত প্রতিবেদন দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয়। এছাড়া সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নে মন্ত্রণালয়ে উৎকোচ দেওয়ার কথা বলে গ্রহীতার মা নিগার সুলতানার কাছ থেকে দফায় দফায় অর্থ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে ফাইল আটকে দলিলপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত অবৈধ সুবিধা আদায়ের অভিযোগও করা হয়েছে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য, পদায়ন ও বদলি-সংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে অভিযোগগুলো তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
চাঁদপুর জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. আলমগীর হোসেন ও দলিল লেখক মো. মহসিন প্রধানের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং হেবা দলিল সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় ও নিবন্ধন পরিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে হেবা দলিল বাতিলের দাবিতে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের মাধ্যমেই হবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
Anti Corruption Movement (ACM)
House: 89 (5th fl), Road -3, Block-F, Banani, Dhaka – 1213, Bangladesh.
www.acmbangladesh.com
emailtoacm@gmail.com